• বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৮

  • || ২০ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
জালিয়াতির অভিযোগে হবিগঞ্জের জেল সুপার বরখাস্ত নবীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার যেসব স্মার্টফোনে চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ সিলেটে স্বস্তির এক দিন সাগরে ফের লঘুচাপ, সিলেটের জন্য যে পূর্বাভাস

কমলগঞ্জে করোনাকালে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে চা শ্রমিকরা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২১  

দেশে যখন করোনায় মৃত্যু ও সনাক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকার ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক সে এসময়েও চালু রয়েছে চা বাগান সমূহ। মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাসহ কোন ধরণের স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই কর্মরত রয়েছেন শতশত চা শ্রমিক। এ অবস্থায় চা বাগানে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন চা শ্রমিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জে উপজেলার ২২টি চা বাগান সমূহে পুরোদমে কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই এবং কর্তৃপক্ষেরও তেমন তদারকি দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে দু’একজনের মুখে মাস্ক পরতে দেখা গেলেও অধিকাংশ শ্রমিকরা মাস্ক ব্যবহার ছাড়াই কাজকর্ম করছেন। কর্মরত নারী শ্রমিকরা গাঁ ঘেঁষাঘেঁষি করে পাতি উত্তোলন করছেন। ওজনের পর গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। তবে মারাত্মক ঝুঁকির আশঙ্কায় শমশেরনগর চা বাগানে কিছু কিছু স্থানে চা ছাত্র ও যুবকরা নিজ উদ্যোগে শ্রমিকদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেছেন। এসবেও তেমন কোন কাজ হবে বলে মনে হয় না। ফলে চা বাগানে করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, ‘চা বাগানে আমাদের শ্রমিকরা অনেক ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। চা শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানোর কথা বললেও এসবে কর্তৃপক্ষ কোন তোয়াক্কাই করছে না। ফলে কার করোনা আছে আর কার নেই সেটি কিভাবে বোঝা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য সেক্টরে প্রণোদনা দেয়া হলেও চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে কোন ধরণের প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে না। এতে দু:খ-কষ্টে দিন যাপন করতে হচ্ছে শ্রমিকদের।’

শমশেরনগর বাগানের চা শ্রমিক সন্তান মোহন রবিদাস বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের চা বাগানের কিছু স্টাফও করোনায় আক্রান্তের সংবাদ শুনতে পাচ্ছি। এ অবস্থার মধ্যেও মাস্ক ব্যবহার ব্যতীত ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।’ তারা আরও বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে দেশের চা শ্রমিকরা। যেখানে চা পাতা তোলা হয় সেখানে স্যানিটাইজার, সাবান থাকে না। এমনকি খাবারে বিশুদ্ধ পানিরও সংকট থাকে। আর গাঁ ঘেঁষাঘেঁষি করে পাতি তোলা, ওজন দেয়া ও গাড়িতে লোড করা এসবই চা শ্রমিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে ওই চা বাগান ম্যানেজমেন্টের একজন কর্মকর্তা নিজের নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক চা শিল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চা বাগান বন্ধ থাকলে কঁচি পাতি বিনষ্ট হবে এবং বড় ধরণের লোকসান গুণতে হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার