• সোমবার   ২৭ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৩ ১৪২৯

  • || ২৬ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সর্বশেষ:
মঙ্গলবার সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না ওসমানীনগরে ২শ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট "প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেউ না খেয়ে মারা যায়নি" বন্যায় সিলেটে ১২ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে সিলেটে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ হবিগঞ্জে নদীর পানি কমেছে, উন্নতি নেই হাওরাঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে সিলেটের বন্যা পর্যবেক্ষণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২৭

সুনামগঞ্জে নামছে বানের পানি, ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়েছে। বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি বন্যাদুর্গতদের। জেলার বিভিন্ন এলাকার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। সুনামগঞ্জের প্রায় ২২০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২২০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৮৪ কিলোমিটার সওজের। বাকি ২০০০ কিলোমিটার সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)।

জেলা সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ৬৮ কিলোমিটারের মধ্যে সুনামগঞ্জ অংশে রয়েছে ৪০ কিলোমিটার। এ সড়কের অধিকাংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গোবিন্দপুর-ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কের ২৭ কিলোমিটার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত ‘দেখার হাওর’। পাহাড়ি ঢলে হাওর উপচে প্লাবিত হয়েছে মহাসড়ক ও গোবিন্দপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। বিধ্বস্ত হয়েছে বাঁশ ও মাটির ঘর। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক। 

এছাড়া দোয়ারাবাজার-সুনামগঞ্জ সড়কের ১৮ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ কাচিরগতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের ১৬ কিলোমিটার, নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়কের ১৭ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ-জামালপুর সড়কের ১৯ কিলোমিটার, মদনপুর-দিরাই-শাল্লা সড়কের ২৬ কিলোমিটার এবং পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের ৩০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলমের বক্তব্য, ‘জেলার মোট সড়ক চার হাজার ৫৭১ কিলোমিটারের মধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দুই হাজার ৮৫০ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সড়ক। পিচঢালা সড়কে যানবাহন চলাচলের ফলে বিটুমিন উঠে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। পানি নেমে গেলে এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করা হবে।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম  বলেন, ‘বেশিরভাগ সড়ক এখনও পানির নিচে। যেসব সড়ক থেকে পানি নেমেছে সেগুলোর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য আমরা দুটি পরিকল্পনা অধিদফতরে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে স্বল্প মেয়াদে সড়ক মেরামতের জন্য ২৬ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। স্থায়ীভাবে সড়ক মেরামতের জন্য ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে  সংস্কারকাজের মালামালের সংকট রয়েছে। অন্যান্য জেলা থেকে যদি প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে আসা যায় এবং এক সপ্তাহের ভেতরে পানি নেমে যায়, তাহলে এক মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করে ফেলবো আমরা।’

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার