• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না যে কারণে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও মাধবপুরের মঈনুল পদ্মাসেতু দাঁড়িয়ে যাওয়ায় বিএনপির হিংসা হচ্ছে বড়লেখায় হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে বালি উত্তোলন না করার দাবিতে তাহিরপুরে মানববন্ধন বিশ্বনাথে জেলা আ’লীগের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলেন শফিক চৌধুরী
১৮

মাধবপুরে বোরোর দাম নিয়ে হতাশ কৃষকরা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২২  

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চলতি বোরো মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বিনামূল্যে সার, বীজ দেয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার ধানের ফলন হয়েছে বেশি। কিন্তু তবু উৎপাদন খরচ কমেনি। বিশেষ করে ধান কাটা মাড়াইসহ গোলায় তুলতে গিয়ে খরচ হয়েছে প্রচুর। সে তুলনায় বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে। প্রতি মন ধান এখন ৭শ থেকে সাড়ে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শ্রমিকের মজুরী বেশি হওয়ায় এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। সরকার ভর্তুকি মূল্যে ধান কাটা মাড়াই যন্ত্র সরবরাহ করলেও কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। ধান কাটা মাড়াই যন্ত্র দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে কৃষকদের গুনতে হয় ২ হাজার টাকা। কৃষকরা কালবৈশাখীর ভয়ে বাধ্য হয়েই উচ্চ দামে ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। কৃষি অফিসের তদারকি না থাকায় ধান মাড়াই যন্ত্র দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে যেভাবে পারছে সেভাবে টাকা আদায় করছে। সেচ খরচসহ সব কিছু মিলে উৎপাদন খরচ এবার বেশি।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক শেরু মিয়া জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। প্রতি বিঘাতে ফলন হয়েছে ১০ থেকে ১২ মন। এখন কিছু ভেজা ধান বিক্রি করেছেন ৭শ টাকা মন দামে। শুকনো ধান বিক্রি হয় ৮শ টাকায়।

সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের কোন সুব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়্ েস্থানীয় ধান ব্যবসায়ীদের কাছে কৃষকরা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একটু বৃষ্টি হলে ধানের দাম আরো কমে যায়।  সরকারি ভর্তুকিতে ধান কাটা মড়াই যন্ত্র দিয়ে কাটা সম্ভব হয়নি। প্রতি বিঘা খরচ চায় ২হাজার টাকা করে। পরে বাধ্য হয়ে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে হয়েছে।

বুল্লা ইউনিয়নের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, শ্রমিক সংকট ও ধান কাটা মাড়াই যন্ত্র না পেয়ে এখন প্রতি বিঘা জমির ধান কাটাতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা দামে। প্রতি বিঘা জমি ধান চাষাবাদ করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে ধানের দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও উঠবেনা। সরকারিভাবে যে পদ্ধতিতে গুদামে ধান সরবরাহ করা হয় সাধারন কৃষকরা এ ব্যাপারে অবগত নয়। যে কারণে কৃষকরা সরকারি খাদ্য গুদামে সময় মত ধান দিতে পারে না।

স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী আব্দুল আলী বলেন, ধান মাড়াইয়ের পর কাঁচা ধান প্রতি মন ৭শ টাকার কিছু ওপরে এবং শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮শ৫০টাকা দরে ক্রয় করা হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান জানান, এবার মাধবপুরে ১১ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ফলন হয়েছে ৪৪ হাজার মেট্রিকটন। বিনামূল্যে সার বীজ দেয়া ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় মাধবপুরে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যারা সরকারি ভুর্তকি ধান কাটা মাড়াই যন্ত্র দিয়ে বেশি দাম রাখার চেষ্টা করেছে তাদেরকে আমরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি, যাতে কৃষকের কোন সমস্যা না হয়। মাধবপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, এ বছর প্রতি কেজি বোরো ধানের সরকারি দর ২৭ টাকা। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১শ’ ৪২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। ১০ মে পর্যন্ত  ৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার