• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
সবজি চাষ: দেড় লাখ কৃষককে সোয়া ১০ কোটি টাকার প্রণোদনা করোনায় বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত: ইউনেসকো নিউজিল্যান্ড জানাল, অন্য দলের সঙ্গে বাংলাদেশও আসবে সিলেটে আরো ৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসলো শাবিপ্রবি স্ত্রী যখন পুড়ছিলেন, স্বামী তখন তাস খেলায় মগ্ন  পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা হচ্ছে না!
৪৩৪

হেফাজতের জন্য সেদিন যা করেছিলেন কামরান!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২০  

 ৫ মে, ২০১৩। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার আন্দোলনে পুরো দেশের ন্যায় সিলেটও উত্তাল। আগের দিন রাতে যানবাহন জটিলতায় ঢাকার শাপলা চত্বরের অবস্থান কর্মসূচিতে যেতে পারেননি সিলেটের অধিকাংশ হেফাজত নেতাকর্মী। পরদিন (৫ মে) কেন্দ্রের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নেন হেফাজত নেতাকর্মীরা।

সেদিন সকাল থেকেই মিছিলে-মিছিলে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে হেফাজতের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুর নাগাদ বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট-সিটি পয়েন্টসহ আশপাশ এলাাকায় আর তিল ধারনের জায়গা থাকলো না আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে।

মাথার উপরে গনগনে সূর্য, নিচে পিচঢালা তপ্ত রাজপথ। আন্দোলনকারীরা হাঁসফাঁস করতে লাগলেন তীব্র গরমে। ঠিক ওই সময় সিলেটের একজন নেতা, যিনি তৎক্ষালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মূলত: তার সরকারের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে আন্দোলনটি, সেই নেতা দল-মত ভুলে আন্দোলনকারীদের জন্য পাঠালেন গাড়িভর্তি পানি  আর তরমুজ। সেই নেতা আর কেউ নন, সিলেটে ‘জনতার নেতা’ খ্যাত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। যিনি সিলেটে স্থাপন করে গেলেন সম্প্রীতিপূর্ণ আর অসহিংস রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সিলেটে ক্বওমি আলেমদের প্রিয়ভাজন ছিলেন সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার চলে যাওয়াতে ক্বওমি অঙ্গনেও অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো বলে মনে করছেন সিলেটে বড় বড় অনেক আলেম।

তাদের বক্তব্য- বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের রাজনৈতিক দল ভিন্ন থাকলেও তার হৃদয়ের একটি বিশাল অংশজুড়ে ছিলেন ক্বওমির আলেম-উলামা। সিলেটে ক্বওমি অঙ্গনের বিভিন্ন সমস্যায় তিনি পাশে দাঁড়াতেন। সিলেটের মরহুম এবং বর্তমান শীর্ষ প্রায় সকল আলেমের সঙ্গেই ছিলো তাঁর সখ্যতা।

বিশেষ করে সিলেটের চলে যাওয়া আলেমদের মধ্যে উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস নুর উদ্দিন গওহরপুরি, আরিফ বিল্লাহ (ইমাম) আকবর আলী, প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান, মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া, মুহাদ্দিস খলীলুর রহমান, মাওলানা শফিকুল হক আমকুনী (রাহ.)সহ প্রায় সকল বড় বড় আলেমের সঙ্গে ছিলো কামরানের ব্যক্তিগত হার্দিক সম্পর্ক।

এছাড়াও মুফতি মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি, মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ, মাওলানা শাহ নজরুল ইসলামসহ সিলেটের বর্তমান বড় বড় ক্বওমি আলেমদের সঙ্গেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলো তাঁর আত্মার আত্মীয়তা।

ইসলামবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সিলেটে ক্বওমি আলেমদের গড়ে তোলা সকল আন্দোলনেও সবসময় একাত্মতা পোষন করতেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এরই ধারাবাহিকতায় দুই বছর আগে সিলেটে কথিত আহলে হাদিস নামক ফেরকার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেন সিলেটের সকল স্তরের আলেম-উলামা। সেই আন্দোলনেও অংশ নিয়ে মঞ্চে বক্তৃতা করেছিলেন কামরান। 

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের এমন চলে যাওয়াতে সিলেটে ক্বওমি অঙ্গনের আলেমরাও গভীর শোকাহত। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন ক্বওমি ঘারানার অনেক সংগঠন। আজও তা অব্যাহত রয়েছে।

আল্লামা নুর উদ্দিন গওহরপুরি (রাহ.)-এর ছেলে গহওরপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু সিলেটভিউ-কে বলেন, আমার আব্বার সঙ্গে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিলো। আব্বার জীবদ্দশায় অনেকবারই গওহরপুর মাদরাসায় এসেছেন তিনি। আব্বার জানাযার নামাজেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমার সঙ্গেও বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো। ফোনে প্রায় সময় খবরাখবর নিতেন। তাঁর মৃত্যুতে আসলে ক্বওমি অঙ্গন বড় মাপের একজন হিতাকাঙ্খী হারালো। দোয়া করি- আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান বানান।

জামেয়া নূরিয়া ভার্থখলার প্রিন্সিপাল মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ কামরান সম্পর্কে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ডুকরে ডুকরে কেঁদে তিনি বললেন- ‘ক্বওমির আলেমদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। আমাকে তিনি আলাদাভাবে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। কত উঠা-বসা ছিলো উনার সঙ্গে। আমি বাড়িতে অসুস্থ থাকায় তাঁর জানাযায় অংশ নিতে পারিনি, বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত পীড়া দিচ্ছে। কামরান ছিলেন ক্বওমি আলেমদের জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। আমি তাঁর জন্য জান্নাতের উচ্চ আসনের দোয়া করছি।’

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাত আড়াইটার দিকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও ভক্তবৃন্দসহ পুরো সিলেটবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার দুপুরে তাঁর মরদেহ সিলেটে নিয়ে আসা হয়। পরে বাদ জোহর নগরের মানিকপীর কবরস্থানে মা-বাবার পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর