শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

১৬৮১

হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসককে এক হাত নিলেন মাশরাফি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০১৯  

নড়াইল সদর হাসপাতালে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ সময় উঠে এসেছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার বাস্তব চিত্র।

খেলোয়াড় মাশরাফিকে সবাই চিনলেও এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে মাশরাফিকে দেখলেন নড়াইলবাসী। জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগদানের আগে নিজের নির্বাচনী এলাকায় দু’দিনের সফরে মাশরাফি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন হাসপাতালকে।

 

কাউকে কিছু না জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে টানা ২ ঘণ্টা নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালে ঝটিকা সফর চালান নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা।

Mashrafi

হাসপাতালে গিয়েই ডাক্তারদের অবস্থান জানতে চেয়ে হাজিরা খাতা দেখেন। হাজিরা খাতায় সার্জারি চিকিৎসক সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আকরাম হোসেনের ৩ দিনের অনুপস্থিতির প্রমাণ পেয়ে ছুটির আবেদন দেখতে চান। পরে জানতে পারেন ছুটি ছাড়াই সেই ডাক্তার ৩ দিন অনুপস্থিত।

 

এ সময় তিনি রোগী সেজে ওই চিকিৎসককে ফোন করলে তিনি রোগীকে রোববার হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বলেন। এ সময় নিজের পরিচয় দিয়ে এমপি চিকিৎসককে বলেন, ‘এখন যদি হাসপাতালে সার্জারির প্রয়োজন হয় তাহলে সেই রোগী কী করবে?’ এরপর সেই ডাক্তারকে তার কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেন তিনি।

 

এরপর মাশরাফি নারী ও শিশু ওয়ার্ডের রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সমস্যা শোনেন। ওই সময় পুরো হাসপাতালে মাত্র একজন ডাক্তারের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে নাখোস হন এমপি।

সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র ২ জন নার্স দেখে তাদের ডিউটির ব্যাপারেও খোঁজ নেন। জানতে পারেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও ২-১ জন নার্স দিয়েই বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিচালিত হচ্ছে।

Mashrafi

ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক নিচে নেমে এসে নার্সিং সুপারভাইজারদের খোঁজ করেন মাশরাফি। নার্সদের কক্ষে তালা দেখতে পেয়ে টেলিফোনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। এ সময় একজন সুপারভাইজারের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং অপরজনের ফোন খোলা থাকলেও রিসিভ করেননি।

 

রোগীদের অনুরোধে হাসপাতালের বাথরুম ও তার পরিবেশ নিজে দেখেন এবং মোবাইলে ছবি তুলে নেন। কয়েকটি বাথরুমের দরজা ভাঙা এবং দুর্গন্ধ থাকায় অত্যন্ত বিব্রত বোধ করেন তিনি।

 

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা এ ব্যাপারে জানার জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে ফোন করতে বলেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর বিথী খাতুন এ সময় অফিসে উপস্থিত থেকে মাশরাফির নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

 

এমন ভূমিকায় দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। এমপির এসব কার্যক্রম ইতোমধ্যে ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর