শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল : বসন্ত ঢাকছে শীতের কুয়াশায় সংগ্রামপুর গ্রামে লালিগাঙের সেতু ঝুঁকিপূর্ণ কত আয় করল ‘লাভ আজ কাল’ সহকর্মীদের কারণেই বাড়ছে হৃদরোগ! এমসি কলেজ চলছে তিন দিনব্যাপী বইমেলা ঢাকায় বহুল আকাঙিক্ষত মেট্রোরেলের মোড়ক উন্মোচন শ্রীমঙ্গলের চা বাগান থেকে লজ্জাবতী বানর উদ্ধার
৬৬

হারিয়ে যাচ্ছে ফিল্টার শিল্প 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু বিশুদ্ধ না হলে সেই পানিই হয়ে উঠতে পারে মৃত্যুর কারণ। পানিকে বিশুদ্ধ করার জন্য বাজারে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরণের ফিল্টার। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক সময়ই নাগালে বাইরে থাকে দাম। সাধ ও সাধের সমন্বয় ঘটিয়ে সাধারণের ভরসা হয়ে উঠেছিলো হবিগঞ্জের মাধবপুরের পানির ফিল্টার। পানিকে ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ রাখতে বেশ জনপ্রিয় ছিল ফিল্টার।

মূলত ধানের তুষ, সিমেন্ট ও বালি দিয়ে তৈরি হতো এ ফিল্টার। পরবর্তী সময়ে এতে মোজাইক পাথরেরও ব্যবহার করা হয়। দামে সস্তা, মানে উন্নত বলে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে এর কদর ছিলো। মাধবপুরে তৈরি ফিল্টার এক সময় রফতানি করা হতো ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। কিন্তু বর্তমানে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি আধুনিক ফিল্টারে বাজারে সয়লাব হয়ে পড়ায় অনেকটাই বিলুপ্তির পথে মাধবপুরের ফিল্টার শিল্প।

এছাড়া ফিল্টার তৈরিতে খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অন্য ব্যবসায় মনোনিবেশ করছেন। সরকার দেশীয় এ শিল্পকে ধরে রাখার উদ্যোগ নিলে আবার পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসতে পারে বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিমত।

জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে সর্বপ্রথম প্রয়াত হীরালাল রায় এ ফিল্টার আবিষ্কার করেন। মাধবপুর উপজেলায় এখনও ছোট বড় ২৬টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কমপক্ষে ৩ শতাধিক লোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদের বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। দিন দিন এ শিল্পের অবনতি দেখে ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।

বুধবার সরেজমিনে কয়েকটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কাঁচামালের মূল্যের উর্ধ্বগতি ও চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মালিকদের বেশির ভাগই এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা এখনও এ পেশায় জড়িত তারাও হিমশিম খাচ্ছেন।

প্রদীপ ফিল্টার হাউসের মালিক প্রদীপ রায় জানান, ফিল্টারের উপকরণ যেমন- সিমেন্ট, বালু ও পালিশের দাম যেভাবে বাড়ছে তেমনিভাবে কমছে ফিল্টার বিক্রির চাহিদা তাতে ব্যবসা চালানো খুব কষ্টকর।
পপুলার ফিল্টার হাউজের মালিক প্রণব রায় জানান, ২০ বছর ধরে ফিল্টার তৈরি করছি। একটি ফিল্টার ৬০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এখন চাহিদা কম, শ্রমিক সঙ্কট ও খরচ বেশি হওয়ায় ফিল্টার উৎপাদন অনেক হ্রাস পেয়েছে।
 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর