• বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনায় সিলেটে আরও পাঁচজনের মৃত্যু সিলেটের ভোলাগঞ্জে আবার চালু হচ্ছে দ্বিতল বাস সার্ভিস সুনামগঞ্জে শুভেচ্ছা উপহার পেলেন ১০০ শিল্পী বিশ্বম্ভরপরে ২০০ জন বন্যার্তকে আর্থিক সহায়তা প্রদান নবীগঞ্জে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা ৩০ বছর পর কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ
৬০

স্বর্ণজয়ী ফেন্সার ফাতেমারা পাঁচ ভাই-বোনই কেন ‘মুজিব’?

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২০  

গত এসএ গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা যে ১৯ টি স্বর্ণ পদক জিতেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে ফেন্সিংয়ে। কারণ, এই পদকটি জিততেই কেবল বাংলাদেশের সামনে বাধা ছিল ভারত-পাকিস্তান। অন্য ১৮ স্বর্ণে যা ছিল না। ফেন্সিং দেশে অপ্রচলিত খেলা হলেও এই ইভেন্টের স্বর্ণটি তাই একটু বেশিই খাঁটি।

এই স্বর্ণটি জেতা যুবতীর নাম ফাতেমা মুজিব। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ আলী ও মা হাছিনা বেগম। বাবা ও মা কারো নামের সঙ্গে মুজিব নেই। তাহলে আপনার নামের শেষে মুজিব রাখার কারণ? কৌতুহল থেকেই প্রশ্নটা। ‘শুধু আমার নয়, আমরা পাঁচ ভাই-বোন। সবার নামের শেষেই ‘মুজিব’। উত্তর শুনে কৌতুহল বাড়লো আরো।

খোরশেদ আলী ও মা হাছিনা বেগম দম্পতির পঞ্চম সন্তান ফাতেমা। সবার বড় বোনের নাম খাদিজা মুজিব। তার তিন ভাইয়ের নাম হাছান মুজিব, হোসেন মুজিব ও সাদ্দাম মুজিব। সবার নামের শেষে মুজিব কেন তার সঠিক উত্তর জানা নেই ফাতেমার। তিনি বলেছিলেন, ‘ঠিক বলতে পারবো না। তবে আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বঙ্গবন্ধুর দারুণ ভক্ত। বাবাই হয়তো বলতে পারবেন।’

এসএ গেমস চলাকালীন ফাতেমার বাবা ছিলেন অসুস্থ। কিছুদিন হাসপাতালেও ছিলেন বুকে ব্যথা নিয়ে। তাই তখন মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলীর কাছে তার পাঁচ সন্তানের নামের শেষে ‘মুজিব’ যোগ করার রহস্য জানা যায়নি। ফাতেমার বড় বোন খাদিজা মুজিব বলেন, ‘আমার বাবা যে বঙ্গবন্ধুকে কতটা ভালোবাসেন এবং তাকে কতটা শ্রদ্ধা করেন, সেটা বলে বোঝানো যাবে না।’

ফাতেমারা পাঁচ ভাই-বোন না হয়ে ছয় ভাই-বোন হতে পারতেন। কিন্তু ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে অনাগত সন্তানসহ ১৯৯৯ সালে মারা যান তার মা হাছিনা বেগম। ফাতেমার বয়স তখন আড়াই বছর।

পাঁচ সন্তানের নামের সঙ্গেই ‘মুজিব’ যোগ করাটা মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলীর হঠাৎ সিদ্ধান্ত ছিল না। আগে থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন তার সন্তান/সন্তানদের নামের সঙ্গে মুজিব যোগ করবেন।

১৯৮৩ সালে বিয়ে করেছিলেন খোরশেদ আলী। তার স্ত্রীও ছিলেন বঙ্গবন্ধুপাগল। জড়িত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। মহিলা আওয়ামী লিগের কমিটিতেও ছিলেন।

‘আমার স্ত্রী আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু ছাড়া কিছু বুঝতো না। কানের দুল ও নাকের ফুলসহ যে ১১ টা জিনিস ব্যবহার করতো সবই ছিল নৌকা। স্বর্ণ কিংবা রৌপ্য দিয়ে নৌকার আদলে গহনা বানিয়ে পড়তেন। তাকে বিয়ে করার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আল্লাহ সন্তান দিলে নামের সঙ্গে ‘মুজিব’ রাখবো। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই সন্তানদের নাম এভাবে রেখেছি। ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে আমার স্ত্রী মারা যায়। ষষ্ঠ সন্তান পৃথিবীতে আসলে তার নামের শেষেও মুজিব যোগ করতাম’-বলছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ আলী।

সন্তানদের নামের সঙ্গে মুজিব রেখেছেন। আপনার সন্তানরা কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করেন? ‘হ্যাঁ। আমার বড় ছেলে যুব লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যরাও আমার মতো বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। আমি কৃষক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি।’

ফাতেমার স্বর্ণজয়ের পরদিন আপনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কন্যার এ প্রাপ্তিতে আপনার অনুভূতি কি? ‘সবচেয়ে বড় কথা সে দেশের পতাকা উড়িয়েছে বিদেশের মাটিতে। এটাতো বাবা হিসেবে আমার গর্ব। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে ৩ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি।’

ফাতেমা কিভাবে ফেন্সিং খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন? ‘আমার ছোট ছেলে সাদ্দামও ফেন্সিং খেলতো। তার সঙ্গে অনুশীলন করেই ফেন্সিং খেলা শিখেছে ফাতেমা। এ ছাড়া আমার বড় মেয়েও এক সময় কুস্তি খেলতো’-বলছিলেন ফাতেমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা মো. খোরশেদ আলী।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
খেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর