• শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
অ্যান্টিজেন টেস্ট, প্রস্তুত সিলেট শামসুদ্দিন হাসপাতাল করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে করণীয় নির্ধারণে সিলেট আসছেন পাটসচিব বিপুল উৎসাহে সিলেটে হাফ ম্যারাথন সম্পন্ন করোনায় আরও ২৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৫২ করোনায় আক্রান্ত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ  বসল পদ্মা সেতুর ৪০তম স্প্যান, দৃশ্যমান ছয় কিলোমিটার 

সিলেটে ‘সাদা সোনা’র এলাকায় পর্যটকদের জন্য যে নতুন নিষেধাজ্ঞা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২০  

‘সাদা সোনা’র এলাকা খ্যাত সিলেট কোম্পানীগঞ্জের সীমান্তবর্তী ধলাই নদের উৎসমুখে পর্যটকদের যাতায়াতে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি ও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিবেচনায় প্রতিদিন বিকেল চারটার পর আর কোনো নৌকা সাদা পাথর এলাকায় যাতায়াত করতে পারবে না। নির্দেশনাটি শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল চারটা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে সাদা পাথর এলাকার নৌপথ অভিমুখে কাঁটাতারের একটি ফটক স্থাপন করে এতে এই নতুন নির্দেশনা সংবলিত ব্যানার সাঁটানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে পাহাড় আর এপারে পাথর আর স্বচ্ছ জলের মোহনীয় হাতছানিতে বছরজুড়ে সাদা পাথর এলাকায় পর্যটকদের ভীড় লেগে থাকে। সড়কপথে ‘সাদা পাথর পরিবহন’ নামের একটি বাস সার্ভিস চালুর পর প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। এর মধ্যে শুক্র, শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকসংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এ বছর শীতকালে বিকেল চারটা থেকে সাদা পাথর অভিমুখে নৌকাসহ যেকোনো প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ করার নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। এ সংক্রান্ত উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা শুক্রবার বিকেলে সাঁটানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও সুমন আচার্যের সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ মিয়া, স্থানীয় পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, টুরিস্ট ক্লাবের সদস্য এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  সুমন আচার্য বলেন, সাদা পাথর এলাকায় প্রতিদিন শতাধিক নৌকা চলাচল করে। প্রতিদিন এখানে হাজারের অধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। ছুটির দিন এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। এর ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শীতকালীর করোনার দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিকেল চারটার পর এখানে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিষয়টি নোটিশ আকারে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলাকায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় পাথরকোয়ারি এই সাদা পাথর। ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল লুংলংপুঞ্জি ও শিলংয়ের চেরাপুঞ্জি, এপারে ধলাই নদের উৎসমুখের বিস্তৃত এলাকায় সারা বছর নদের পানি প্রবহমান থাকে। বৃষ্টিবহুল চেরাপুঞ্জির পাদদেশ থেকে বর্ষায় ঢলের পানির সঙ্গে পাহাড়ের পাথরখণ্ড এপারে নেমে আসে। তাই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে সাদা পাথরের স্তূপ ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র।

পর্যটক আকর্ষণের যে স্থানটিতে ১৯৯০ সালে পাহাড়ি ঢলে প্রথম পাথর জমা হয়। কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণ না করায় তখন ব্যাপক লুটপাট হয়েছিল। দুই যুগের বেশি সময়ের পর ২০১৭ সালের বর্ষাকালে আবার পাথর জমা হলে এবার স্থানীয় মানুষজন পাথর লুটপাটের বিরুদ্ধে নামেন। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করায় গোটা এলাকা পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে জমা হওয়া পাথরের স্তূপ আরও বিস্তৃত হয়েছে। যা প্রতিনিয়ত মহনীয় হাতছানিতে পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের ডাকতে থাকে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার