• বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনায় সিলেটে আরও পাঁচজনের মৃত্যু সিলেটের ভোলাগঞ্জে আবার চালু হচ্ছে দ্বিতল বাস সার্ভিস সুনামগঞ্জে শুভেচ্ছা উপহার পেলেন ১০০ শিল্পী বিশ্বম্ভরপরে ২০০ জন বন্যার্তকে আর্থিক সহায়তা প্রদান নবীগঞ্জে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা ৩০ বছর পর কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ
১৫৭

সিলেটে লন্ডনীদের ভীড়

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

 


লন্ডন প্রবাসীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো সিলেট। গত ২ সপ্তাহে সিলেটে কয়েক হাজার লন্ডন প্রবাসী এসেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব বড় দিনের ছুটি ও নতুন বছরের প্রথম দিকে ছুটি থাকার কারণে লন্ডন প্রবাসীরা দেশে এসেছেন। যার কারণে সিলেটের পর্যটন স্পট, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে বাড়তি চাপ লক্ষ করা গেছে।

সিলেটের প্রায় ৪ লাখ মানুষ যুক্তরাজ্যে (লন্ডন)বসবাস করেন। বছরের বিভিন্ন ছুটির সময় নাড়ীর টানে তাঁরা চলে আসেন আপন ভূমি সিলেটে। তবে শীতকালে বড় দিন ও নতুন বছরের ছুটি পাশাপাশি থাকার কারনে একত্রে ছুটি পান পশ্চিমা দেশের লোকজন। যার কারণে লন্ডন প্রবাসীরা বছরের এই সময়ে ৪/৫ সপ্তাহের জন্য চলে আসেন দেশে। সিলেটীদের বড় একটি অংশ লন্ডনে থাকার কারনে তুলনামুলকভাবে এ বছর অনেকে দেশে চলে এসেছেন আপনজনদের সাথে ছুটি কাটাতে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, দেশের রাজনীতি বর্তমানে অনেকটা স্বাভাবিক। সুতরাং দেশে আসতে অনেকের বাড়টি কোন চিন্তা করতে হয়নি।

লন্ডন প্রবাসীরা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বিয়ে ঠিক করেন সাধারণত এই সময়ে। সিলেটের বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ঘুরে জানা গেছে, গত কয়েকদিন থেকে বেশীরভাগ বিয়ে হচ্ছে লন্ডন প্রবাসীদের আত্মীয়-স্বজনদের। তারা ছুটিতে দেশে আসার আগেভাগেই বিয়ে ঠিক করে রাখা হয় এই সময়ে।

এসব প্রবাসীদের মধ্যে কেউ থাকেন নিজ গ্রামের বাড়ীতে। আবার কেউ থাকেন শহরে। শহরকে কেন্দ্র করে তারা তাদের পরিকল্পনা ঠিক করেন।যাদের শহরে নিজস্ব বাসা-বাড়ী নেই তাদের অনেকেই ফার্নিচারসহ ফ্লাট বাড়া করে নেন ৪/৫ সপ্তাহের জন্য। সিলেটের উপশহর হল লন্ডন প্রবাসীদের ফার্নিচারসহ বাসা ভাড়া নেয়া প্রথম পছন্দ। এই সময়ে ফার্নিচারসহ বাসা ভাড়া বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অনেকটা বেড়ে যায়। বর্তমানে উপশহরে ৩ বেড রুমের একেকটি বাসা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বাড়া যাচ্ছে। দক্ষিণ সুরমার পিরোজপুর আবাসিক এলাকায় কটেজ বাড়া দেন জায়েদ আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান, ৩ বেড রুমের কটেজ বছরের বিভিন্ন সময় খালি থাকে। কিন্তু গত কয়েক মাস থেকে লন্ডন প্রবাসীরা ৩/৪ সপ্তাহের জন্য বাড়া নিচ্ছেন ৬০ হাজার টাকা দিয়ে।

এই ছুটির সময় বিয়ে ছাড়াও লন্ডনীরা অনেক সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে চলে আসেন জন্ম ভূমিতে। অনেক মাওলানারা দেশে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে দাওয়াত পেয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। লন্ডনের বিশিষ্ট আলেম মুফতি আব্দুল মুন্তাকিম জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ওয়াজ মাহফিলে দাওয়াত থাকায় বয়ান রাখতে দেশে এসেছেন। এছাড়া তাঁর প্রতিষ্ঠিত জামেয়াতুল খায়ের মাদরাসার আগামী ৭ জানুয়ারি ওয়াজ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম যুক্তরাজ্যের সাধারণ সম্পাদক, জগন্নাথপুরের মাওলানা নাঈম আহমদ, জকিগঞ্জের দারুল আযকার মাদরাসার পরিচালক হাফেজ আব্দুর রহমান ওয়াজ মাহফিলে যোগদানের জন্য দেশে এসেছেন বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এছাড়া জকিগঞ্জের কলাকুটা গ্রামের কৃতি ব্যক্তিত্ব লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম ও খতিব কাজী লুৎফুর রহমান সপ্তাহ আগে দেশে এসেছেন। গেল শুক্রবার বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এ জুম্মার নামাজের পূর্বে বয়ানও রেখেছেন।

এছাড়া জগন্নাথপুরের পাটলি ইউনিয়নের জুনায়েদ চৌধুরী তাদের পরিবারের শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশে এসেছেন। তারা তাদের ইউনিয়নে স্বেচ্ছায় গড়ে তোলা আরডিএফ মেটারনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করতে এসেছেন দেশে।

সিলেটের জাফলং, বিছনাকান্দি, সাদা পাথর, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল চা বাগান, লাউয়াছড়া, হবিগঞ্জের মাধবকুণ্ড দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য লন্ডন প্রবাসীরা যাতায়াত করছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। সিলেটে প্রবাসীরা আসায় ব্যবসা বাণিজ্য কিছুটা ভালো হচ্ছে। ব্লু ওয়াটারের কাপড় ব্যবসায়ী রাসেল আহমদ তালুকদার জানান, গত ঈদের পর থেকে ব্যবসা অনেকটা মন্দা ছিল। কিছু দিন থেকে লন্ডন প্রবাসীরা দেশে আসায় ব্যবসা অনেকটা বেড়েছে।

এদিকে বেশ কয়েকজন লন্ডন প্রবাসী জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের সন্তানরা বাংলাদেশে আসতে চায় না। দেশে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও পর্যটন স্পটগুলোতে মান সম্মত টয়লেট, ওয়াস রুম, কাপড় পরিবর্তনসহ নানান সমস্যা থাকার কারণে নতুন প্রজন্মেরে সন্তানরা দেশ বিমুখ হয়ে পড়েছে। তারা তুরস্ক, মিশর, মরিশাস, দুবাই, মরক্কো, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ছুটি কাটাতে চলে যায়। তবে অনেক মা-বাবা আদিনিবাস দেখাতে তাদেরকে দেশে আনতে উৎসাহ দেন।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি এটিএম শোয়েব বলেছেন, অবকাঠামোগত ভাবে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিলে দেশে আসতে তারা আরো উৎসাহিত হবেন। এছাড়া তিনি বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সমুদ্র সৈকত, অথচ অনেক বিদেশীরা তা জানেন না।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ান বিমানে উঠলে তাদের দেশে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানান বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের বিমানে এ ধরনের কোন প্রচারণা নেই। এজন্য সরকার ও পর্যটন কর্পোরেশনকে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর