রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

সর্বশেষ:
মেয়র আরিফকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যর্থ বিমান উড্ডয়ন জন্মদিনে শেখ রাসেলের সমাধিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা শেখ রাসেলের জন্মদিন আজ ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন মেয়র আরিফ
১০৫

সিলেটে চামড়া ব্যবসার দুর্দিন, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৯  

কোরবানির ঈদ এলেই জমে ওঠে পশুর চামড়া ব্যবসা। ব্যবসায়ীরাও অপেক্ষায় থাকেন এই সময়টার জন্য। তবে এবার সিলেটের চিত্র ভিন্ন। সিলেটে চামড়া ব্যবসার দুর্দিন চলছে। পুঁজি সঙ্কটে ভূগছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ফলে এবার তারা চামড়া কিনতে আগ্রহী নয়।

দীর্ঘদিন থেকে ঢাকার একাধিক আড়তে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা আটকে থাকায় এই পুঁজি সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। 

২০১৫ সাল থেকে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের টাকা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করছে না ঢাকার ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বছরও চামড়া ব্যবসা করে লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করলেও এখন তারা দেউলিয়া হয়ে পথে নেমেছেন।

শাহজালাল বহুমুখী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ শামীম আহমদ বলেন, ‘চামড়া ব্যবসা এখন আর নেই বললেই চলে। বর্তমানে এই শিল্পটি ধ্বংসের পথে। এর জন্য দায়ী ঢাকার ট্যানারি মালিকেরা। তারা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা পরিচালনা করার কারণেই এই ব্যবসায় ধস নেমেছে। এমনকি দীর্ঘদিন থেকে চামড়া বিক্রির টাকাও পাওনা রয়েছে। এই ব্যবসা করে অনেকেই পুঁজি হারিয়ে কোনোভাবে জীবন-যাপন করছেন। পাওনা টাকার জন্য ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে একাধিকবার বসলে টাকা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়, কিন্তু টাকা আর পরে মেলে না।’  

চামড়া সমিতি সূত্র জানায়, সিলেটে মাঝারি চামড়া ৮ থেকে ১০ বছর আগে দাম ছিল ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে গত কয়েকবছর থেকে এই মাঝারি চামড়ার বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। তবে এবার মাঝারি সাইজের গরুর চামড়া ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকার বেশি দামে কেনা সম্ভব নয়। একসময় সিলেটে চামড়া ব্যবসার সঙ্গে প্রায় হাজার খানেক ব্যবসায়ী জড়িত থাকলেও বর্তমানে এই ব্যবসায় জড়িত আছেন প্রায় শতাধিক লোক। লবণের দাম ও ঈদ মৌসুমে চামড়ার শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন এই ব্যবসা সার্বিক দিক থেকে লোকসানে নেমেছে।’  

প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় এবার কোরবানি হবে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৩৫টি। আর সিলেট জেলায় ১০ হাজার ৮৪৩টি খামারে ৮৭ হাজার ১৯০টি গবাদিপশু রয়েছে। এরমধ্যে বলদ রয়েছে ৯ হাজার ৭৫৬টি, ষাঁড় রয়েছে ৫০ হাজার ৯৯২টি, ৩ হাজার ১১৪টি মহিষ, ৯ হাজার ৭৩৬টি ছাগল, ৫ হাজার ৬৭৬টি ভেড়া রয়েছে।

এদিকে, পশুর চামড়া কোনোভাবেই যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না হয় সেদিকে লক্ষ্যে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের দিন থেকে শুরু করে প্রায় এক সপ্তাহ বলবৎ থাকবে। এছাড়াও প্রতি বছরের মতো এবারও চামড়া পাচার রোধে সিলেট জেলা ও মহানগর থানা পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স আর সীমান্ত এলাকাগুলোতে সর্তকভাবে অবস্থানে থাকবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।চামড়া পাচার রোধে জেলা, মহানগর পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানো হবে। সিলেটের ওসমানীনগর,শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুরসহ কয়েকটি স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালাবে পুলিশ। ইতোমধ্যে থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মহানগরীর ৬টি থানা ও জেলা পুলিশের আওতাধীন থানাসহ পুলিশ ফাঁড়িকে সর্তক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা থেকে নাজিরবাজার, লামাকাজি, টিলাগড়, শাহপরান গেইট ও প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর, বালাগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশের নজরদারিতে থাকবে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সিলেটের চামড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতে পাচার না হয় সেজন্য সর্তকমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি। চামড়া পাচারকারী চক্র আগরতলা, সরাইল, জাফলং, তামাবিল সীমান্তসহ অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার যাতে না হয় সেদিকে বিজিবির কঠোর নজরদারি থাকবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, ‘পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ। এছাড়াও শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে।’ 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার