রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০   চৈত্র ১৫ ১৪২৬   ০৪ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
সিলেটবাসীর সুরক্ষায় মাঠে সেনাবাহিনী; সাধুবাদ দিচ্ছেন নাগরিকরা! বিশ্বনাথে সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে চাল-ডাল বিতরণ বানিয়াচংয়ে ত্রাণ বিতরণ করলেন সাংসদ মজিদ খান করোনার প্রভাবে সুনামগঞ্জে কমেছে সবজির দাম সোমবার ওসমানীতে আসছে করোনা পরীক্ষার মেশিন সুনামগঞ্জে মানুষকে সচেতন করতে সেনাবাহিনীর নানা উদ্যোগ কোয়ারেন্টিন থেকে সিলেটজুড়ে মুক্তি পেয়েছেন ১২৪৭ জন
১৪৮

সিলেটকে তার বিহীন নগরী করতে ৯ দিন পর ‘বন্ধ হচ্ছে’ ইন্টারনেট!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া এখনকার দিনে কোনো কিছুই কল্পনাতীত। প্রতিমুহুর্তে দাপ্তরিক কিংবা ব্যক্তিগত-সব ধরনের কাজে ইন্টারনেট সংযোগ অবশ্যম্ভাবী। সেই ইন্টারনেট সংযোগ (ব্রডব্যান্ড) আগামী ৯ দিন (৭ কর্মদিবস) পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে সিলেট মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায়। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এ নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে।

জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল (তার) ভূগর্ভে (মাটির নিচে) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম এলাকা হিসেবে ‘তারবিহীন নগরী’ হচ্ছে সিলেট। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সহযোগিতায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং সরকারি ইন্টারনেট সেবা সংস্থা বিটিসিএলের ক্যাবলসমূহ মাটির নিচে নেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু বেসরকারি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ক্যাবল মাটির নিচে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আবার ‘তারবিহীন নগরী’ গড়তে তাদেরকে ওভারহেড (মাটির উপর দিয়ে) ইন্টারনেট ক্যাবল টানার সুযোগ দিতেও অনীহা সিসিকের। এরকম অবস্থায় আইএসপি’র আওতায় থাকা প্রায় ৪০টি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার গ্রাহক পড়েছেন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নে শঙ্কায়। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বীমা এবং সংবাদপত্রের কার্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি।

সিসিক সূত্র জানিয়েছে, বিউবোর অর্থায়নে ও সিসিকের সহযোগিতায় সিলেট মহানগরীতে ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) এর দরগাহের প্রবেশপথ থেকে মূল ফটক পর্যন্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল মাটির নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে নগরীর আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই থেকে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার ও সিটি পয়েন্ট হয়ে সিলেট সার্কিট হাউজ পর্যন্ত, চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে রিকাবীবাজার হয়ে নবাব রোডস্থ বিউবোর বাগবাড়ি কার্যালয় পর্যন্ত এবং জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে পূর্ব জিন্দাবাজার হয়ে জেলরোড পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল মাটির নিচে নেওয়ার কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে এসব এলাকায় মাটির উপরে থাকা বৈদ্যুতিক ক্যাবল ও খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হবে মাটির নিচ দিয়ে।

এক্ষেত্রেই ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) সংযোগকৃত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা, আইএসপি’র কোনো ক্যাবল মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার আইনত সুযোগ নেই। কিন্তু সংযোগ চালু রাখতে সিসিক কিংবা বিউবো তাদেরকে কোনো সুযোগ করে দিচ্ছে না বলে আইএসপি’র নেতৃবৃন্দের অভিযোগ।

আজ শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশন একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এর বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিউবো এর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই থেকে চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার ও সিটি পয়েন্ট হয়ে সিলেট সার্কিট হাউস পর্যন্ত, চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে রিকাবীবাজার হয়ে নবাব রোডস্থ বিউবোর বাগবাড়ি কার্যালয়, পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে জেলরোড পয়েন্ট পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তারসমূহ ভূগর্ভে স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়েছে। উল্লেখিত এলাকাসমূহে স্থাপিত সকল বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ওভারহেড তারসমূহ বিউবো কর্তৃক অপসারণ করা হবে। বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ করার ফলে খুঁটিসমূহে স্থাপিত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) ক্যাবলসমূহও অপসারিত হবে। যার ফলে ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উক্ত বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) এবং আইএসপি এর সাথে কয়েক দফা সভা করে কোন সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এ ব্যাপারে আইনগতভাবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোন দায়-দায়িত্ব নেই বিধায় আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আইএসপিগণকে এনটিটিএন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো গেল। অন্যথায় অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্টরা দায়ী থাকবেন।’

সিসিকের এই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ইন্টারনেট সংযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল রবিবার থেকে আগামী ২ মার্চ (৭ কর্মদিবস, শুক্র-শনিবার ছুটিসহ ৯ দিন) সময় আছে। এর মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে উল্লেখিত এলাকাগুলোয় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চরম বিপাকে পড়বেন হাজার হাজার গ্রাহক। বন্ধ হয়ে যাবে ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ওউনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেটের যুগ্ম আহবায়ক এবং অ্যারোনেটের স্বত্ত্বাধিকারী বাহার হোসেন বলেন, ‘বিটিআরসি আমাদের অভিভাবক, তারা লাইসেন্স দেয়। তাদের নিয়ম অনুসারে, আমরা মাটির নিচে ক্যাবল নিতে পারি না। একমাত্র যারা এনটিটিএন লাইসেন্সপ্রাপ্ত, তারাই এটা পারে। সরকারি বিটিসিএল, এনটিটিএন লাইসেন্সধারী সামিট আর ফাইবার অ্যাটম ক্যাবল মাটির নিচে নেওয়ার সুযোগ পায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সিলেটে ইন্টারনেট সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে সিসিকে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছি। বৈঠকে এনটিটিএন প্রতিনিধিও ছিলেন। তারা জানায়, আমরা যারা আইএসপির আওতায় আছি, তারা মাটির নিচে ক্যাবল নিতে পারবো, তবে গ্রাহকদের সার্ভিসের বিষয়টি আমাদেরকেই দেখতে হবে। তবে তারা প্রত্যেকটি সংযোগের ক্ষেত্রে মাসে ৬ হাজার টাকা করে দাবি করে। এক্ষেত্রে একজন গ্রাহক বর্তমানে যদি ১ হাজার টাকা প্যাকেজ ব্যবহার করেন, তবে এনটিটিএনের দাবি মানলে ওই গ্রাহককে সবমিলিয়ে দিতে হবে ৭ হাজার টাকা, যা সম্ভব নয়।’

বাহার হোসেন আরো বলেন, ‘পরে আমরা মেয়রের সাথে আলাপ করে একটি প্রস্তাব দেই যে, যেসব স্ট্রিট লাইটের খুঁটি আছে, সেগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা সব সার্ভিস প্রোভাইডারের ক্যাবল একটি ক্যাবলে রূপান্তর করে নিয়ে যাবো। এতে কোনো ক্যাবল ঝুলে থাকবে না। আর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাতে ক্যাবলে এলইডি বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা থাকবে। সিসিকের স্ট্রিট লাইটের খুঁটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বছরে ভাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। সিসিক ১২-১৪ লাখ টাকা চায় বছরে, আমরা ২-৩ লাখ টাকা দিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মেয়র জানান, কোনো ধরনের ক্যাবলই মাটির উপরে রাখা যাবে না।’

এই ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বলেন, ‘পরে মেয়র আমাদেরকে বলেন, তিনি সড়কের ড্রেনের সাথে ৬ ইঞ্চির ক্যানেল করে দেবেন, এর মধ্য দিয়ে ক্যাবল নিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার তিনি আমাদেরকে সিসিকে ডাকেন, ক্যানেল করতে যে কয়েক কোটি টাকা খরচ হবে, তা বহন করতে বলেন। কিন্তু আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।‘

এক প্রশ্নের জবাবে বাহার হোসেন বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা করণীয় নির্ধারণ করছি। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করার আলোচনা চলছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর