মঙ্গলবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১৫ ১৪২৬   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
সিটি নির্বাচন উপলক্ষ্যে শুক্র-শনিবার বন্ধ থাকবে বাণিজ্য মেলা ২০২১ সালের জুনে পদ্মা সেতু, ডিসেম্বরে মেট্রোরেল উদ্বোধন ‘ব্যয়বহুল’ হলো কক্সবাজার শহর, সুবিধা বাড়বে চাকরিজীবীদের প্রধানমন্ত্রীর ইতালি সফর ফেব্রুয়ারিতে, সম্পর্ক জোরদারের বার্তা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আহা কি অপরূপ সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ! মৌলভীবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকার্ন্ডে ৫জন নিহত
৮৭৭

সংকটে বড়লেখা পল্লী বিদ্যুৎ!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০১৯  

 


মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ে লাইনম্যান ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে গ্রাহক সেবা। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। প্রায়ই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিভ্রাটের শিকার হতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে।


উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের একটি অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কার্যলয়ের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। আরো পাঁচ সহস্রাধিক গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ চলমান রয়েছে। এবছর শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি জনবল। চাহিদার তুলনায় লাইনম্যানের সংখ্যা খুবই কম। 


বড়লেখা শহর কার্যালয়ে ১২জন, দাসেরবাজার অভিযোগ কেন্দ্রে ৪ জন, আজিমগঞ্জ (সুজানগর) অভিযোগ কেন্দ্রে ৪ জন ও জুড়ী অভিযোগ কেন্দ্রে ৫ জনসহ লাইনম্যান কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। দুই হাজার গ্রাহকের বিপরীতে ১ জন করে লাইনম্যান থাকার কথা। সে হিসেবে লাইনম্যানের ১০টি পদ শূন্য আছে। সংকট আছে ট্রান্সফরমার ও লাইনের ফিউজ খোলা-লাগানোর যন্ত্র ফোল্ডিং হটিস্টিকেরও। ৫টি ফোল্ডিং হটিস্টিক থাকার কথা। আছে মাত্র দুটি। এগুলো আবার পুরাতন হওয়ায় কাজ করে না। জরুরী মূহুর্তে বিপাকে পড়ে লাইনম্যানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ দিয়ে ট্রান্সফরমার ও লাইনের ফিউজ খোলা-লাগানো করে থাকেন। পাহাড় ও হাওরবেষ্টিত এই উপজেলাগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে লাইন মেরামত করতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে গ্রাহক সেবা ব্যহত হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গ্রাহকের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে।


শহরের বাসিন্দা শিক্ষক বিমান কান্তি দাস বলেন, ‘দিনের বেলা ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। রাতেও অনেক সময় থাকে না। এতে গরমে অনেকে অসুস্থ হচ্ছেন। বয়স্ক মানুষেরও কষ্ট হচ্ছে।’


শহরের ব্যবসায়ী ইফতে খায়রুল বাসার বাবলু বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। শহরের ভেতর দিয়ে অনেক বড় বড় লাইন গেছে। সারা বছরই লাইনম্যানরা দেখি কাজ করে। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত লাইন চালু হয়না। ভালো যন্ত্রপাতিও দেখি না তাদের। প্রায়ই দেখি মোটরসাইকেলে করে লাইনম্যানরা বাঁশ নিয়ে আসে। ওটা দিয়ে ফিউজ দেয়।’


অন্যদিকে শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরের ভারত সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন। পাহাড়ি ওই এলাকার কোথাও লাইনে সমস্যা দেখা দিলে শহর অফিস থেকে লাইনম্যানরা গিয়ে কাজ করেন। এতে সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ করতে কোনো কোনো সময় ১দিনও সময় লেগে যায়। এই সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকেন গ্রাহকরা। সেবার মান বাড়াতে ওই এলাকায় একটি অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, ‘আমার এখানে ৪০টি গ্রাম। ৮টি চা বাগান ও বেশ কয়েকটি খাসিয়া পুঞ্জি রয়েছে। লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে শহর থেকে এসে লাইন মেরামত করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। একটা অভিযোগ কেন্দ্র খুব জরুরী। এতে আমার ইউনিয়ন এলাকা ছাড়াও পাশের নিজ বাহাদুরপুর ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের একটি বড় অংশের লাইনের মেরামত কাজ দ্রুততম সময়ে হবে। গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে দ্রুত একটি অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করার দাবী এলাকাবাসীর।’


পল্লী বিদ্যুতের বড়লেখা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘লাইনম্যান সংকটের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ও অবগত আছেন। ফোল্ডিং হটিস্টিক দুটি আছে। ওই বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জুড়ীতে আরো একটি অভিযোগ কেন্দ্রের প্রস্তাব পাঠানো আছে। শাহবাজপুরেও একটা দরকার। এতে আমরা ভালো সার্ভিস দিতে পারব গ্রাহদের।’

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর