বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

সর্বশেষ:
অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অ্যাকশনে পুলিশ সিলেটে ছিনতাই করে ঢাকায় পালিয়ে গিয়েও রক্ষা হলনা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন আজ সড়ক ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
৩২৭

রিয়ালের কোচ আসে-যায়

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়াটা কঠিন কোনো দায়িত্ব নেওয়ার সামিল। ক্লাবের সাফল্য আর ব্যর্থতার উপরই চাকরি নির্ভর করে ক্লাবটির কোচদের। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলটির কোচিং দায়িত্ব নেওয়া মানেই ভাগ্যের উপর নিজের রুটি-রুজিকে ছেড়ে দেওয়া। সম্প্রতি কোচ নিয়ে অনেক জল ঘোলা করেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

২০০৯-১০ মৌসুম থেকে শুরু করে রিয়ালের কোচ পদে বসা কেউই নিজেদের চাকরির শেষ সীমা পর্যন্ত যেতে পারেননি। সবশেষ অন্তবর্তীকালীন কোচ সান্তিয়াগো সোলারির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে রিয়ালের দায়িত্ব। গত ১৩ নভেম্বর সোলারিকে প্রধান কোচের স্থায়ী চাকরিটা দেওয়া হয়েছে। সেটিও কোনো কোচ খুঁজে না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই সোলারির হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সোলারির চুক্তিটা ২০২১ পর্যন্ত।

২০০৮ সালের ৯ ডিসেম্বর স্প্যানিশ কোচ জুয়ানদে রামোসের হাতে রিয়ালকে তুলে দেওয়া হয়। কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি তিনি। ২০০৯ সালের ১ জুন তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে রিয়াল তার অধীনে ২৭ ম্যাচ খেলে ১৮টিতে জয় পায়। ২০০৯ সালের ২ জুন রিয়ালে যোগ দেন চিলির ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনি। স্প্যানিশ ক্লাবটিতে টিকতে পেরেছিলেন ২০১০ সালের ২৬ মে পর্যন্ত। তার অধীনে রিয়াল ৪৮ ম্যাচের ৩৬টিতেই জিতেছিল। চুক্তিটা ছিল ২০১৬ পর্যন্ত, সেটা কমিয়ে আনা হয় ২০১৩ পর্যন্ত, কিন্তু টিকেছিলেন ২০১০ পর্যন্ত।

২০১০ সালের ৩১ মে পেল্লেগ্রিনির স্থলাভিষিক্ত হন পর্তুগালের হোসে মরিনহো। রিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তিটা ছিল ২০১৬ পর্যন্ত, চলে যেতে হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ জুন। রিয়ালে আসার আগে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা সহ ট্রেবল জেতান মরিনহো। রিয়াল তার অধীনে খেলেছে ১৭৮ ম্যাচ, জিতেছে ১২৮ ম্যাচ। তার অধীনে রিয়াল জিতেছে একটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে, একটি সুপারকোপা ডি এসপানার শিরোপা।

মরিনহোর বিদায়ে রিয়ালে যোগ দেন কার্লো আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ ২০১৩ সালের ২৫ জুন যোগ দিয়ে চাকরি ছাড়েন ২০১৫ সালের ২৫ মে। তার অধীনে রিয়াল খেলেছে ১১৯ ম্যাচ, জিতেছে ৮৯ ম্যাচ। এর মধ্যে কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে রিয়াল। তার চুক্তিটাও ছিল ২০১৬ পর্যন্ত। চুক্তির মেয়াদ শেষের এক বছর আগেই সরিয়ে দেওয়া হয় আনচেলত্তিকে। ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি ফাইনালে আনচেলত্তির শিষ্যরা জুভেন্টাসের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসে। সে মৌসুমে জুভেন্টাসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে ট্রেবল জেতা বার্সেলোনা।

এরপর শুরু হয় স্প্যানিশ কোচ রাফায়েল বেনিতেজের যুগ। ভাবা হয়েছিল রিয়াল তাদের কাঙ্খিত কোচ পেয়ে গেছে। কিন্তু, বেনিতেজের যুগটা ২০১৫ সালের ৩ জুন থেকে ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। অথচ তার সঙ্গে চুক্তিটা ছিল ২০১৮ পর্যন্ত। তার অধীনে রিয়াল ২৫ ম্যাচ খেলে জিতেছিল ১৭টিতে। এরপর বেনিতেজের সহকারী হিসেবে কাজ করা ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের দিকে হাত বাড়ায় রিয়াল। ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি প্রধান কোচের দায়িত্ব পান জিদান। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ছিলেন ২০১৮ সালের ৩১ মে পর্যন্ত। তার অধীনে রিয়াল খেলেছিল ১৪৯ ম্যাচ, জিতেছিল ১০৪টিতে। এর মধ্যে রিয়ালের শোকেসে এসেছিল একটি লা লিগা, একটি সুপারকোপা ডি এসপানা, তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি উয়েফা সুপার কাপ, দুটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতানো এই কোচ হুট করেই চাকরিটা ছেড়ে দেন। অথচ রিয়াল তার সঙ্গে চুক্তিটা বাড়িয়েছিল ২০২০ পর্যন্ত।

জিদান চলে যাওয়ার পর বেশ বিপাকে পড়ে রিয়াল। যা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে স্পেন জাতীয় দলের কোচ হুলেন লোপেতেগুইকে চূড়ান্ত করে রিয়াল। লোপেতেগুই তখন স্পেন জাতীয় দল নিয়ে ব্যস্ত, দলের টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে তাই লুকিয়েছিলেন রিয়ালের কোচ হওয়ার ব্যাপারটি। জানাজানি হয়ে তা ভালোভাবে নেয়নি স্পেন। জাতীয় দলকে নিয়ে রাশিয়ায় গেলেও তাকে দ্রুতই বরখাস্ত করে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপটা ঘরে বসে কাটাতে হয় তাকে। এরপর যোগ দেন রিয়ালে। ২০১৮ সালের ১২ জুন শুরু হয় লোপেতেগুইয়ের দায়িত্ব। তার অধীনে রিয়াল খেলেছে মাত্র ১৪টি ম্যাচ, জিতেছে ৬টিতে। মেনে নিতে পারেনি রিয়ালের ম্যানেজমেন্ট। ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর লোপেতেগুইকে বরখাস্ত করে রিয়াল। অথচ ২০২১ সাল পর্যন্ত লোপেতেগুইয়ের সঙ্গে রিয়াল চুক্তি করেছিল। সাড়ে চার মাসও টিকতে পারেননি তিনি।

কোচ খুঁজে দিশেহারা রিয়াল এবার হাত বাড়িয়েছে তাদের সহকারী কোচ সান্তিয়াগো সোলারির দিকে। ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টাইন এই কোচকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছে রিয়াল। তার অধীনে প্রথম ৪ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছিল রিয়াল। তবে, সবশেষ লা লিগার ম্যাচে এইবারের বিপক্ষে হারতে হয়েছে সোলারির শিষ্যদের। সোলারির সঙ্গে রিয়ালের চুক্তিটাও ২০২১ সাল পর্যন্ত। এরমধ্যে সোলারির কপালে কী ঘটবে সেটা সময়ের হাতে তোলা থাক।

রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তার দায়িত্ব আমলে ১৩ কোচের আসা-যাওয়া দেখেছেন। স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক তিন টার্মে রিয়ালের কোচিং করিয়েছিলেন। সবশেষ ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ দলটির কোচ ছিলেন তিনি। সেবার তার অধীনে ২৩৩ ম্যাচ খেলে রিয়াল জিতেছিল ১২৭ ম্যাচ। জিতেছিল দুটি লা লিগা, একটি সুপারকোপা ডি এসপানা, দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের শিরোপা। দেল বস্কই একমাত্র কোচ যিনি তার চুক্তির পুরোটা সময় রিয়ালে কাটিয়েছেন। রিয়াল তাকে চুক্তি বাড়িয়ে রাখতে চাইলেও থাকেননি এই স্প্যানিশ কোচ।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার