সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৮ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

সর্বশেষ:
শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ সাফল্য অর্জন: হু আবুধাবিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর বেড়াতে গিয়ে লাশ হলেন ইমনুর হাওরাঞ্চলে যন্ত্রনির্ভর ধানচাষের লক্ষ্য সরকারের কমবে উৎপাদন ব্যয় দলের ভাবমূর্তি উদ্ধারে পরগাছা দূর করা হবে: কাদের
২৭০

রাজনীতিতে খালেদা যুগের অবসান 

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮  

বিচারিক আদালতে কোনও ব্যক্তি ২ বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) দণ্ড স্থগিত করা হলে কিংবা আপিল চলাকালে কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আপিল বিভাগে দণ্ড স্থগিত কিংবা বাতিল হলে ওই ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সাজা স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দুর্নীতির অভিযোগে বিচারিক আদালতে দায়ের হওয়া মামলার দণ্ড (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে বিএনপির ৫ নেতার করা আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

এদিকে, দুর্নীতির মামলা দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সাজা স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর নো অর্ডার (কোনও আদেশ নয়) দিয়েছেন আপিল বিভাগ। 

আদালতে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আহসানুল করীম ও খায়রুল আলম চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। 

পরে ব্যারিস্টার খায়রুল আলম বলেন, ‘সাজা স্থগিত চেয়ে ডা. জাহিদ হোসেন হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। হাইকোর্ট সে আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দেন। এরপর সে আদেশের বিরুদ্ধে আমরা চেম্বার আদালতে গেলে আজ তার সাজার বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ এ আবেদনের ওপর নো অর্ডার দেন। ফলে তার সাজা স্থগিতের বিষয়ে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা সে বিষয়টি এখন রিটার্নিং অফিসারের ওপর নির্ভর করছে।’

অপরদিকে, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপিল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আটকে যায় হাইকোর্টের এক আদেশে। 

হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

দুর্নীতির দায়ে বিচারকি আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজের আদেশের সঙ্গে হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ আসে।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কেউ অন্যুন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে মুক্তির পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দুর্নীতির দুই মামলায় আপিলে খালাস পেলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর