• সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
সিলেটের ডেকোরেটার্স মালিকদের প্রণোদনা দাবি সিলেটে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন! ধর্মপাশায় করোনা টেস্টের বুথ উদ্বোধন মাধবপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা কমলগঞ্জ ফার্মাসিস্টের বদলী প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন তৃতীয় দফায় করোনা পরীক্ষা করালেন মাশরাফী
৩৪৪

যে কুকুর সঙ্গ দেয় পথ হারানো পর্যটকদের!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

 


মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বনবিট এলাকায় নৈসর্গিক সৌন্দর্যের হামহাম জলপ্রপাতের অবস্থান। দুর্গম জঙ্গলঘেরা এই জলপ্রপাতটির উচ্চতার নির্ভরযোগ্য সঠিক পরিমাপ এখনো জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয় যে, এর উচ্চতা ১৩৫-১৬০ ফুটের মধ্যে। 

গহীন পাহাড়ি ও ঝিরি পথের কারণে অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের কাছে হামহাম ঝর্ণার যাওয়া আসার রাস্তা ট্রেকিং ঝর্ণার রুপের সাথে অতিরিক্ত পাওনা। উপজেলার কলাবাগান থেকে শুরু হয় মূল অ্যাডভেঞ্চার। পাশেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। পায়ে হাঁটা রাস্তায় জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। ভুল করে অন্য পথে গেলে পথ হারানোর সম্ভাবনা থাকে এবং যেহেতু সাথেই ভারতের সীমান্ত তাই প্রাণহানীর ঝুঁকিও থাকে। অনেক প্রস্তুতি নিয়ে গাইড নিয়ে যেতে হয় সেই সাথে গহীন পাহাড়ি এবং ঝিরি পথের পিচ্ছিল পথে, একটু বেখেয়াল হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
 
এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে হামহাম ঝর্ণার পাশে যেতেই সব ক্লান্তি নিমিষেই কেড়ে নেয় হামহামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য। ফেরার মত অনেকটা নিজের আবেগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই ফিরতে হয়। মন বলে আরো কিছুটা সময় থাকা যায় না?
 
“হামি” একটু কুকুরের নাম। কুকুরের সাথে মানুষের সম্পর্ক অনেক সময় আলোচনায় আসলেও এমন নিরাপত্তা দিয়ে পর্যটককে গন্তব্যস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিরল। যা প্রতিনিয়তই করে চলছে এই কুকুর। তাই হামহামে আসা পর্যটকদের প্রিয় বন্ধু “হামি”।

হামহামে গিয়ে একজন পর্যটক তখনই এই কুকুরের দেখা পাবেন, যখন বেলা গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যাবে বা  তিনি পথ হারাবেন। আর যদি পর্যটকের গাইড না থাকে তাহলে এই কুকুরটিই হয়ে উঠবে গাইড। হামহাম ঝর্ণায় সর্বশেষ একজন পর্যটক থাকলেও “হামি” সেখান থেকে ফিরে আসে না। যখন শেষ পর্যটক হামহাম থেকে চলে আসবেন তখন হামিও লোকালয়ের পথে হাটবে। 

স্থানীয় গাইড ও এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, হামি নামের এই কুকুরটি প্রায় ২ বছর থেকে পর্যটকদের সাথে প্রতিদিন সকালে হামহাম জলপ্রপাতে যায়। সেখানে সারাদিন সে থাকে। পর্যটকদের দেয়া বিভিন্ন খাবার খায়। তার সাথে আরেকটি কুকুর আছে ‘মামি’ নামের। তবে হামিই দুরন্ত ও দায়িত্বশীল। যতক্ষণ সেখানে পর্যটক থাকবেন ততক্ষণ হামি সেখানে থাকবে। 
 
সম্প্রতি হামহাম ঘুরে এসেছেন ডেনমার্কের নাগরিক টিকলু ও বিমান ধর তারা জানান, রাস্তায় সে আমাদের সাথে শুধুই ছিল এমনটা বললে ভুল হবে। সে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় সে আমাদের বিকল্প রাস্তায় চলতে দেখিয়েছে। বন্যপ্রাণীদের নড়াচড়া পেলে সে পেছনে চলে গেছে যাতে আমাদের উপর কোনো প্রাণী আক্রমন করলে সে ঠেকাতে পারে।’

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর