রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
বুদ্ধিজীবি দিবসে মৌলভীবাজারে আলোচনা সভা সুনামগঞ্জে বুদ্ধিজীবী দিবস পালন সুনামগঞ্জে মহিলা পরিষদের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত গোয়াইনঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস পালিত সিলেটে বই মেলায় কাপড়ের দোকান ! প্রাথমিকে নেয়া হবে ১৮ হাজার শিক্ষক, ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল ‘মোশতাক, জিয়ার মতো মীরজাফররা আর যেন ক্ষমতায় না আসে’
২৩৫

যার সেতারের ঝংকারে কাচ বিদীর্ণ হতো

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৯  

 


সঙ্গীত ভালোবাসেন আর মিয়া তানসেনের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তিনি ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীত সাধক মিয়া তানসেন। তাকে সঙ্গীত সম্রাট নামে ডাকা হয়। তার সেতারের ঝংকারে কাচ বিদীর্ণ হতো। বৃষ্টি হতো। তার সেতারের শক্তি ছিল বিরাট।

সম্রাট আকবরের সভার শ্রেষ্ঠ গায়ক ছিলেন মিয়া তানসেন। রাজসভার কিছু সভাকর তানসেনের ব্যাপারে ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে। তারা তানসেনকে হত্যার ষড়যন্ত্রও করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়।

প্রায় সব বিশেষজ্ঞের ধারণা মতে, উত্তর ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ মিয়া তানসেন। বর্তমানে আমরা যে হিন্দুস্তানী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচিত তার মূল স্রষ্টা হলেন এই তানসেন। তার এই সৃষ্টি যন্ত্র সঙ্গীতের এক অনবদ্য অবদান। বহু প্রাচীনকালে সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত এর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। তার কর্ম এবং বংশীয় উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমেই মূলত এই ধারাটি আজও টিকে রয়েছে।

তানসেন ভারতের গোয়ালিয়রে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দে। তার বাবা মুকুন্দ মিশ্রা ছিলেন একজন কবি। ছোটবেলায় তার নাম ছিল তনু মিশ্রা।

ছোটবেলা থেকেই তানসেন সঙ্গীত শিক্ষা করতে শুরু করেন। এই শিক্ষায় তার গুরু ছিলেন বৃন্দাবনের তৎকালীন বিখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষক হরিদাস স্বামী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার মেধার ক্ষমতা প্রকাশিত হয়। তার মেধা দেখে স্বামীজি বিস্মিত হন।

জানা যায়, ছোটবেলায় খুব দুরন্ত স্বভাবের ছিল তানসেন। প্রায়ই সে বাড়ির পাশের বনের মধ্যে ঘুরে বেড়াত এবং বনের পশুপাখিদের ডাক নকল করে ডাকতো নিখুঁতভাবে। একদিন বিখ্যাত সংগীত সাধক স্বামী হরিদাস তার দল নিয়ে সেই বনের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। বনমধ্যে ক্লান্ত হয়ে দলটি একটি বিশাল গাছের ছায়ায় বসে। এ সময় আড়াল থেকে তানসেন তাদের দেখতে পেলো। বনের মধ্যে অচেনা মানুষ, হঠাৎ তাদের ভয় দেখানোর দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল তানসেনের মাথায়। সে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেল এবং সেখান থেকে বাঘের গর্জনে দিতে লাগলো। ভয় আতঙ্কে গানের দলটি দিক বেদিক ছুটোছুটি শুরু করলো। কিন্তু স্বামী হরিদাস তাদের ডাকলেন অভয় দিলেন বাঘ সবসময় ভয়ঙ্কর নয়।

এর মধ্যে দলের একজন গাছের আড়ালে তানসেনকে দেখে ফেললো। আড়াল থেকে তাকে ধরে এনে বললো, গুরু এখানে কোনও বাঘ নেই, আছে শুধু এই দুষ্টু বালকটি।

স্বামী হরিদাস তাকে কোনও শাস্তি দিলেন না, তিনি তানসেনকে তার বাবার কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন আপনাদের সন্তান খুবই দুষ্টু এবং একই সঙ্গে সে খুব মেধাবীও। আমার মনে হয় আমি তাকে ভালো সংগীত শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে পারবো। তার বাবাকে বলে নিজের সঙ্গে বৃন্দাবন নিয়ে যান।

তানসেন যখন সংগীত শেখার জন্য গৃহত্যাগ করেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। এবং বৃন্দাবনেই তানসেনের মূল ভিত রচিত হয়। তিনি স্বামী হরিদাসের কাছ থেকে ১১ বছর সংগীত শিক্ষা লাভ করেন এবং নিজেকে একজন বিখ্যাত সংগীত সাধক হিসেবে তৈরি করেন। অনেক বিখ্যাত হওয়ার পরও তাই তিনি সময় পেলেই বৃন্দাবন আসতেন।

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তানসেনের মা বাবা মারা যায়। তার বাবা মুকুন্দ মিশ্রার শেষ ইচ্ছা ছিল তানসেন যেন গোয়ালিয়ার আরেক বিখ্যাত সংগীত সাধক মোহাম্মদ গউছের সঙ্গে দেখা করেন। তাই বাবা-মার মৃত্যুর পর তিনি হযরত গাউসের নিকট আসেন। তিনি একই সঙ্গে তানসেনের সাঙ্গীতিক ও আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। তবে তানসেন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কি না তা নির্ভরযোগ্যভাবে জানা যায় না। এর পক্ষে ও বিপক্ষে দুইদিকেই প্রচুর মত পাওয়া যায়।

যাই হোক, শিক্ষা শেষে তিনি মেওয়া বান্ধবগড়ের রাজা রামচন্দ্রের রাজকীয় আদালতে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজ দরবারে নবরত্নের একজন হিসেবে সঙ্গীতের সাধনা শুরু করেন। তানসেন সম্রাট আকবরের সভায় যোগদান করেন ১৫৫৬ সালে। এবং সম্রাট আকবরের সভার গায়ক হয়ে থাকলেন ১৫৮৫ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

তানসেনের দু’জন স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের খবর পাওয়া যায়। সন্তানদের নাম-হামিরসেন, সুরাটসেন, বিলাস খান, তান্সান্স খান, সরস্বতী দেবী।

গোয়ালিয়রের মহান সুফি সাধক শেখ মুহাম্মদ গাউসের সমাধি কমপ্লেক্সেই মিয়া তানসেনে সমাধি রচিত হয়েছিল। এখনও এটি বিদ্যমান রয়েছে। শেখ মুহাম্মদ গাউস ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম সুফি দরবেশ ও ফকির ছিলেন। সব ধর্ম বিশ্বাসের লোকের কাছে তিনি স্বনামধন্য ছিলেন।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর