• বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২২ ১৪২৮

  • || ২৩ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
এবারও বিদেশিদের হজ বন্ধ রাখবে সৌদি আরব! করোনায় এক দিনে মৃত্যু ৫০, শনাক্ত ১৭৪২ একসঙ্গে ৯ সন্তানের জন্ম থাকতে হবে কর্মস্থলে, জেলার গাড়ি জেলাতেই চলবে যা আছে প্রজ্ঞাপনে রায়হান হত্যা: আকবরসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট হবিগঞ্জে ৫০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

মৃত ভাইকে দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল একই পরিবারের চারজনের

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২ মে ২০২১  

সিলেটের জৈন্তাপুরের দরবস্ত এলাকায় সাহরির পর চাচাতো ভাইয়ের মরদেহ দেখতে রোববার সকালে পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে রওনা দেন রূপচেঙ গ্রামের মৃত জামাল আহমদের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (৩৫)। তবে ভাইয়ের মরদেহ আর দেখা হয়নি তার। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ওঠার সময় ট্রাকের চাপায় সাদিয়া বেগমসহ পরিবারে চার সদস্য নিহত হন। তাদের বাড়ি উপজেলার রূপচেঙ গ্রামে।

এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকও। এ ঘটনায় সাদিয়ার পরিবারের আরও দুই সদস্য মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে। রূপচেঙ গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে। একজনের দাফনের প্রস্তুতি নেয়া পরিবারকে এখন চারজনকে দাফনের কাজ করতে হচ্ছে।

রোববার (২ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জৈন্তাপুরের রূপচেঙ গ্রামের রাস্তা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ফেরিঘাট এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ওঠার সময় অটোরিকশাকে ট্রাকচাপা দিলে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন মারা যান।

নিহতরা হলেন- জৈন্তাপুরের পাখিবিল গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হোসেন আহমদ (৩৫), একই উপজেলার রূপচেঙ গ্রামের মৃত জামাল আহমদের স্ত্রী সাদিয়া বেগম (৩৫), তার শিশু সন্তান শাহাদত হোসেন, সাবিয়া বেগম (৭) এবং জামাল আহমদের বোন হাবিবুন্নেছা (৩৩)।

এছাড়াও গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন- রূপচেঙ গ্রামের মৃত আরজান আলীর ছেলে ও নিহত সাদিয়া বেগমের ভাসুর মো. জাকারিয়া (৫০) ও জাকারিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪০)।

রোববার সকালে হতাহতদের নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে এসেছিলেন জাকারিয়া আহমদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের এক আত্মীয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সবাই অটোরিকশাযোগে দরবস্ত যাচ্ছিলেন। ফেরিঘাট এলাকায় অটোরিকশাটি মহাসড়কে ওঠার সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ধুমড়ে মুচড়ে যায়।

তবে আঘাত আর পরিবারের সদস্যদের হারানোর বেদনায় মূর্ছা গেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচ তলার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মো. জাকারিয়া। যখনই পরিবারের কথা মনে হচ্ছে তখনই ফুঁপিয়ে কাঁদছেন তিনি। বারবার বলছেন, ‘একটা সিএনজি ভালো মতোই পৌঁছে গেছে। আর সামান্যর জন্য আমাদেরটা কেন পৌঁছাল না। হঠাৎ করেই একটি ট্রাক এসে আমাদের সিএনজিকে চাপা দিল।’

এদিকে, তার স্ত্রী হাসিনা বেগম চিকিৎসাধীন আছেন হাসপাতালের ৪র্থ তলার ছয় নম্বর ওয়ার্ডে। তবে তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া হাবিবুন্নেসার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন ভাই মাহমুদ আলী। তিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে আসেন। তবে হাসপাতালের নানা জায়গায় খুঁজেও বোনকে না পেয়ে খোঁজ নেন জরুরি বিভাগে। সেখান থেকে জানানো হয়, হাসপাতালে আনার পথেই মারা যান হাবিবুন্নেসা। তার মরদেহ জরুরি বিভাগের নির্দিষ্ট রুমে রাখা আছে। সেখানে গিয়ে স্ট্রেচারে বোনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

হাবিবুন্নেসার ছেলে দিলদার হোসেন জানান, ‘সিলেট রাগীব রাবেয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আব্দুল কাইয়ূম মামার মরদেহ দেখতে মামা, দুই মামি, মামাতো ভাই-বোন, মাসহ কয়েকজন সকালে দুটি সিএনজিযোগে রওনা দেন। তবে পথিমধ্যে তাদের দুটি সিএনজির একটিকে চাপা দেয় একটি ট্রাক। এতে ছোট মামি, তার ছেলে-মেয়ে, আমার মা ও গাড়ির ড্রাইভার মারা যান। আর বড় মামা ও মামি আহত হন। তাদেরকে পুলিশ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।’

জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দস্তগীর আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। ঘটনাস্থলেই নিহত হওয়ায় চারজনের মরদেহ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। তবে ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার