• বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৮

  • || ২০ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
জালিয়াতির অভিযোগে হবিগঞ্জের জেল সুপার বরখাস্ত নবীগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের লাশ উদ্ধার যেসব স্মার্টফোনে চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ সিলেটে স্বস্তির এক দিন সাগরে ফের লঘুচাপ, সিলেটের জন্য যে পূর্বাভাস

মায়ের মরদেহ নিয়ে ৩দিন গৃহবন্দি ছেলে-মেয়ে

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২১  

মায়ের মরদেহ  দাফন না করে তিনদিন যাবত গৃহবন্দি ছিলেন ছেলে-মেয়েরা। মৃত মায়ের মরদেহ ঘরে রেখেই চলছিল- তাদের জীবন যাপন। এমন এঘটনা ঘটেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের রাজনপুর গ্রামে। 

ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় দাফন করা হয়। 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছানা মিয়া ২ জানুয়ারি মারা যান। স্ত্রীর সঙ্গে তেমন বনিবনা ছিল না। যে কারণে ছানা মিয়ার স্ত্রী চল্লিশোর্ধ্ব জেসমিন বেগম এক ছেলে ও ৩ মেয়েকে নিয়ে সিলেট নগরে বসবাস করতেন। 
অসুস্থ অবস্থায় গত শনিবার নগরের উইউমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। ওইদিন গভীর রাত ৩ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান ছেলে-মেয়েরা। এরপর থেকেই তারা ঘরবন্দি ছিলেন। বাড়ির আশপাশের লোকজনও জানতেন না ঘরের ভেতর মরদেহ রাখা! 

স্থানীয়রা আরো বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে অ্যাম্বুলেন্স চালক টাকা চাইতে বাড়িতে গেলে ঘরে মরদেহ রাখার ঘটনাটি জানাজানি হয়। 

পরে বাড়ির আত্মীয় স্বজনরা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। 

বাড়ির লোকজন জানান, সাংসারিক জীবনে ছানা মিয়ার সঙ্গে তার স্ত্রীর দূরত্ব থাকলেও প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে সন্তানদের লেখাপড়ার। খরচ দিয়ে গেছেন। কিন্তু তারাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারেনি। আর। মরদেহের সঙ্গে একই ঘরে বসবাসের বিষয়টি সন্তানদের মানসিক সমস্যা। হিসেবে দেখছেন তারা। 

এ ঘটনার পর মৃতের ছেলে সনি, মেয়ে সুমা, উমা ও ইমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা পুলিশকে জানায়, সাংসারিক জীবনে তার বাবা-মায়ের মধ্যে দূরত্ব ছিল। বাপ-চাচারা ৫ ভাই। বাবা আগেই মারা গেছেন। মাও মারা গেছেন। সম্পদের জন্য চাচারা যদি মারধর করে বের করে দেন, এ জন্য তারা মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি কাউকে জানাননি। এমনকি দাফন করতে না পারায় মরদেহ ঘরে রেখে দেন। 

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) শাফায়াত হোসেন বলেন, ওই নারীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদও রয়েছে। তবে মৃতের সঙ্গে সন্তানদের ঘুমানোর বিষয়টি অস্বাভাবিক। যদিও তারা সুস্থ। আছে। মানসিক সমস্যার কারণে তারা এমনটি করতে পেরেছে। অবশ্য রাতে পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলােচনার পর মরদেহ দাফন করা হয়। আর স্বাভাবিক মৃত্যুর কারণে কোনো আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার