• মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭

  • || ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
সবজি চাষ: দেড় লাখ কৃষককে সোয়া ১০ কোটি টাকার প্রণোদনা করোনায় বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত: ইউনেসকো নিউজিল্যান্ড জানাল, অন্য দলের সঙ্গে বাংলাদেশও আসবে সিলেটে আরো ৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আসলো শাবিপ্রবি স্ত্রী যখন পুড়ছিলেন, স্বামী তখন তাস খেলায় মগ্ন  পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা হচ্ছে না!
৭৭

মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট: ডাব্লুএইসও

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২০  

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশে ও করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস নিয়ে কার্যকর কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি।  যেকোনও নতুন আবিষ্কারই আমাদের উৎসাহিত করে। বিশেষ করে সংকটকালে তা আরও আশাব্যঞ্জক। তবে আবিষ্কৃত উপাদানটি সঠিক কিনা বা মানুষের উপকারে আসবে না বিপদ বাড়াবে, সেজন্য সবসময় কিছু সাবধানতামূলক প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়।

গণস্বাস্থ্যের করোনাভাইরাস টেস্ট  কিটের কাজ এখন যে পর্যায়ে আছে সেখান থেকে দেশের আইন অনুযায়ী তাদের আরও কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হবে  এবং তা করতে হবে মানুষের কল্যাণের স্বার্থেই।
অপরীক্ষিত গণস্বাস্থ্যের তৈরি করোনা শনাক্তকরণ কিট মানুষের জন্য সম্পদ না হয়ে হতে পারে বিপদজনক! তাই সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন গবেষকরা। 

গবেষকরা বলছেন, এটি একটি একাডেমিক আলোচনা। অনেকে বলছেন, সরকার রাজনৈতিক কারণে গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে মশকরা শুরু করেছে। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছে, এই কিটের উদ্ভাবন রহস্য নিয়ে। আবেগের বানে ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

বিজ্ঞানে আবেগের কোনও স্থান নেই, নেই কোনও রাজনীতির মহারথিদের অবস্থান। বিজ্ঞান চায় শুধু প্রমাণ ও যৌক্তিক আলোচনা।
কিটের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তা নির্ভর করবে এর সফলতার উপর। মাত্র ৫ টি নমুনা পরীক্ষা করে নিজে নিজে শতভাগ সফল দাবি করে হাজার হাজার মানুষের জীবনকে বিপদে ফেলা কখনোই কোন গবেষণার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।
পাবলিক সেন্টিমেন্ট দিয়ে কখনো জীবন-মরণের সম্পর্ক জড়িত বিষয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করা ঠিক নয়।

এরজন্য কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। যদিও এখন পর্যন্ত কোন ধাপই অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

(১) প্রথম ধাপ: উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান (এক্ষেত্রে গণস্বাস্থ্য) আইন অনুযায়ী একটি থার্ড পার্টি Contract Research Organization বা CRO-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি-সহ মোট নয়টি এমন থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান (CRO) আছে।

(২) দ্বিতীয় ধাপ:  ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আগে উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান, CRO-কে সঙ্গে নিয়ে প্রটোকল (Protocol) প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (BMRC)-এর ন্যাশনাল রিসার্চ এথিক্স কমিটিতে।

(৩) তৃতীয় ধাপ: ন্যাশনাল রিসার্চ এথিক্স কমিটির অনুমোদনের পর সেখান থেকে অনুমোদিত প্রটোকলটি যাবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অ্যাডভাইজরি কমিটিতে।

(৪) চতুর্থ ধাপ: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অ্যাডভাইজরি কমিটির অনুমোদনের পর, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে হবে, যা আইন অনুযায়ী হতে হবে একটি থার্ড পার্টি বা CRO-এর মাধ্যমে। বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি-সহ মোট নয়টি এমন থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান (CRO) আছে, যা আগেই উল্লেখ করেছি। এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানেও কিন্তু অনুমোদন না।

(৫) পঞ্চম ধাপ: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হলেই কেবল চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে।

(৬) ষষ্ঠ ধাপ: তারপর সফলতা সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি থেকে।

অর্থাৎ, উল্লিখিত ধাপগুলো সম্পন্ন না করে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছে কিট হস্তান্তরের কোনও সুযোগ নেই। উল্লিখিত ধাপগুলো সম্পন্ন করা প্রয়োজন জনকল্যাণের স্বার্থেই, না হলে মানুষের উপকার হওয়ার থেকে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কিছু না করে সরাসরি কিট গুলো নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়েছেন জমা দিতে যা সরাসরি ব্যবহারেরও দাবি জানিয়েছেন। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে র‌্যাপিড কিট এখনও মান যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়নি। এ ধরনের কিট ব্যবহার করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

জানা গেছে র‌্যাপিড কিটে ৩০ শতাংশ নেগেটিভ ও পজেটিভ ফলস আসে। সে কারণে কোনো দেশেই র‌্যাপিড কিট ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর