• রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু হবিগঞ্জ করোনা আতঙ্ক: ফুটপাতের খাবারের ব্যবসায় মন্দা বাংলাদেশি সেনাদের নিয়ে গর্ব করা উচিত: অ্যান্তোনিও গুতেরেস জুড়ীতে আরও ২ জনের করোনা শনাক্ত লোভাছড়ায় রাতের আঁধারে পাথর বহন, রাজস্ব ফাঁকি বড়লেখায় করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করলো প্রশাসন স্ত্রীর পর সাবেক মেয়র কামরানও করোনায় আক্রান্ত
২১২

মন চাঙা রাখতে দেখুন হুমায়ুন আহমেদের সেরা নাটকগুলো

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২০  

সাহিত্যের পাশাপাশি নাটক নির্মাণ ও রচনাতেও কিংবদন্তী হয়ে আছেন হুমায়ুন আহমেদ। তার প্রায় সব নাটকই হৃদয় স্পর্শ করা সংলাপের জন্য দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার লেখা চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছে জীবন্ত। বাকের ভাইয়ের মতো কিছু চরিত্র কালজয় করে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে।

বিটিভির জন্য ১৯৮৩ সালে 'প্রথম প্রহর' নাটক লেখার মধ্য দিয়ে নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদের যাত্রা হয়। এরপর বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক লিখে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান তিনি। একটা সময় নিজেই নাটক নির্মাণ শুরু করেন। সেখানেও দারুণ সাফল্য পান।

করোনার এই সংকটে ঘরবন্দী দর্শক হুমায়ুন আহমেদের নাটকগুলো দিয়ে অলস ও একঘেয়েমির সময়টাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন। ইউটিউবে হুমায়ুন আহমেদের নাটক লিখে খুঁজলেই মিলবে বিরাট তালিকা। যেখানে খন্ড ও ধারাবাহিক নাটকগুলো থাকবে।

তার মধ্যে এই লেখকের ধারাবাহিক নাটকগুলো হতে পারে সময় কাটানোর সেরা অনুষঙ্গ। কারণ ধারাবাহিক নাটকে হুমায়ুন আহমেদ একজন ম্যাজিশিয়ানের নাম।

এইসব দিনরাত্রি
বিটিভিতে ১৯৮৫ সালে প্রচার হয় হুমায়ুন আহমেদ রচিত প্রথম ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি'।
মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী পরিবারের জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মিত এই নাটক বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতাতেও তুমুল জনপ্রিয় ছিলো।

এখানে প্রধান নারী চরিত্র অর্থাৎ পরিবারের বড় বউ ‘নীলু’ চরিত্রটি হয়ে উঠেছিলো মধ্যবিত্ত সমাজের আদর্শ বউ। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন হতো সংসারে নীলুর মত বউ চাই। এ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন ডলি জহুর। ধারাবাহিকটির শিশুশিল্পী টুনি চরিত্রটিকেও দর্শকরা আপন করে নিয়েছিল।

মো. মুস্তাফিজুর রহমানের প্রযোজনায় এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে আছেন আসাদুজ্জামান নূর, বুলবুল আহমেদ, আবুল খায়ের, খালেদ খান, শিল্পী সরকার অপু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ইনাম আহমেদ, লুৎফন্নাহার লতাসহ আরো অনেকে।

বহুব্রীহি
'এইসব দিনরাত্রি' ব্যাপক সাফল্যের পর ১৯৮৮ সালে আবারও ধারাবাহিক লিখলেন হুমায়ুন আহমেদ। সেই নাটকের নাম 'বহুব্রীহি'। এ নাটকে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধের অনেক চমৎকার চিত্র তুলে ধরা হয়। এই ধারাবাহিকের বিশেষ করে রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা তৈরি করতে বিখ্যাত সেই সংলাপ ‘তুই রাজাকার’ সৃষ্টি করেছিলেন।

নাটকে প্রধান ভূমিকায় সোবহান সাহেব চরিত্রে অভিনয় করা আবুল হায়াতের এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা নাটক। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলী যাকের, আবুল খায়ের, আসাদুজ্জামান নূর, আলেয়া ফেরদৌসী, লুৎফন্নাহার লতা, আফজাল হোসেন, লাকী ইনাম, আফজাল শরীফসহ আরো অনেকে। আর মাহমুদা খাতুন এই নাটকে অভিনয় করেই রহিমার মা নামে পরিচিত হন।

অয়োময়
দর্শক চাইলে ঘরে বসে দেখতে পারেন হুমায়ুন আহমেদের আরও একটি দারুণ ধারাবাহিক 'অয়োময়'।
ব্রিটিশ ভারতে ক্ষয়িঞ্চু জমিদারের আভিজাত্য, অহংকারসহ নানা বিষয় নিয়ে ১৯৯১ সালে নির্মিত হয় এ নাটক। এখানে জমিদার মির্জা সাহেব চরিত্রে আসাদুজ্জামান নূরের অনবদ্য অভিনয় মুগ্ধ করবে৷ সেইসঙ্গে সুবর্ণা মুস্তাফা, বিপাশা হায়াত, লাকী ইনাম, সারা যাকের, তারানা হালিম, আবুল হায়াত, দিলারা জামান, আবুল খায়ের, ড. ইনামুল হক, আফজাল শরীফদের মত অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীরাও মুগ্ধতা দেবে।

কোথাও কেউ নেই
বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক মাইলফলক নাটকের নাম 'কোথাও কেউ নেই'। এই নাটকের জনপ্রিয় চরিত্র সর্বোপরি নাট্যঙ্গনের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র বাকের ভাইকে নিয়ে পুরো দর্শকমহলে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল নব্বই দশকের শুরুর দিকে। বাকের ভাইকে এতটাই আপন করে নিয়েছিলেন যে নাটকে যেন তার ফাঁসি না হয় সেজন্য মিছিল বের করেছিল দর্শকরা। অবশেষে তার মৃত্যুর পর গায়েবানা জানাযা পড়ার কথাও শোনা যায়। বাকের ভাই চরিত্রে আসাদুজ্জামান নূরের অভিনয় স্মরনীয় হয়ে আছে। ১৯৯৩ সালে প্রচার হওয়া এ নাটকে মুনা চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে সেরা অভিনয় করেছিলেন সুবর্ণা মুস্তফা। এছাড়াও এ নাটকে অভিনয়ে করছেন আফসানা মিমি, শহীদুজ্জামান সেলিম, শীলা আহমেদ, মাসুদ আলী খান, আবুল খায়ের, লাকী ইনাম, মোজাম্মেল হক, আব্দুল কাদের, দিবা নার্গিস, লুৎফর রহমান জর্জ, পুতুল, তমালিকা, বিজরী, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ূন ফরিদী সহ আরো অনেকে।

নক্ষত্রের রাত
১৯৯৫ সালের 'নক্ষত্রের রাত' নাটক দিয়ে নির্মাণে আসেন হুমায়ুন আহমেদ। মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনবোধ নিয়ে নির্মিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, শমী কায়সার, আবুল হায়াত, দিলারা জামান, আফসানা মিমি, আলী যাকের, সারা যাকের, মেহের আফরোজ শাওন, শীলা আহমেদ, আজিজুল হাকিম, দিহান, আবুল খায়ের, লাকী ইনাম অন্যতম। এই নাটকে আব্দুল কাদেরের হাসির অভিনয় দর্শকের মন জয় করেছিলো।

আজ রবিবার
বিটিভিতে ১৯৯৬ সালে প্রচার শুরু হয় 'আজ রবিবার' ধারাবাহিকটি। প্যাকেজ আকারে এই নাটকটি নির্মাণ করেন মনির হোসেন জীবন। এখানে আনিস ও তিতলী-কঙ্কা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সমাদৃত হন জাহিদ হাসান ও শাওন-শীলা আহমেদ। এছাড়া বড়চাচার চরিত্রে আলী যাকের ও মতি মিয়ার চরিত্রে ফারুক আহমেদ বেশ সুপরিচিতি পান। এই জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকটিতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন আবুল খায়ের, আবুল হায়াত, সুবর্ণা মুস্তফা, আসাদুজ্জামান নূরসহ আরো অনেকে।

সবুজ ছায়া ও সবুজ সাথী
প্রথমটি ১৯৯৭ সালে এবং পরেরটি ১৯৯৮ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়। গ্রামাঞ্চল ভিত্তিক স্বাস্থ্য সচেতনামূলক ধারাবাহিক নাটক সবুজ ছায়া ও সবুজ সাথী। এই দুটি নাটকের অভিনয়শিল্পীও প্রায় এক। তারমধ্যে সবুজ ছায়ায় অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ূন ফরিদী, শান্তা ইসলাম, জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, শাওন, নাজমা আনোয়ারসহ আরো অনেকে।
আর ‘সবুজ সাথী’ নাটকে প্রধান চরিত্রে দেখা গেছে আফসানা মিমিকে। আরও আছেন আসাদুজ্জামান নূর, জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ, নাজমা আনোয়ারসহ অনেকে।

উড়ে যায় বকপক্ষী
হুমায়ুন আহমেদ রচিত ও নির্মিত দারুণ একটি ধারাবাহিক ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’।
২০০৪ সালে নাটকটি প্রচার হয় এনটিভিতে। এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাওন, রিয়াজ, স্বাধীন খসরু, মাসুম আজিজ, চ্যালেঞ্জার, ফারুক আহমেদ, দিহান, এজাজুল ইসলাম, ড.ইনামুল হকসহ আরো অনেকে।

জোছনার ফুল
একদিকে এনটিভিতে যখন 'উড়ে যায় বকপক্ষী' নাটকটি প্রচার হচ্ছিলো তখন বিটিভিতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো 'জোছনার ফুল' নাটকটি। এটি পরিচালনা করেছিলেন আবুল হায়াত, হুমায়ুন আহমেদেরই গল্পে। শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ নিয়ে সচেতনতামূলক ধারাবাহিক নাটক ‘জোছনার ফুল’ এর কেন্দ্রীর চরিত্রে ছিলেন স্কুল মাস্টারের ভূমিকায় রিয়াজ। তার বিপরীতে এখানে ছিলেন শ্রাবন্তী। এছাড়াই অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, মনির খান শিমুল, শারমিন শীলা, ফজলুর রহমান বাবু, রহমত আলীসহ আরো অনেকে।

এছাড়াও হুমায়ুন আহমেদ পরিচালনা করেছেন 'এই মেঘ এই রুদ্র', 'কালা কইতর', 'চন্দ্র কারিগর' নামের ধারাবাহিকগুলো। গল্প, সংলাপ, কলাকুশলী- সবকিছুতেই উল্লেখিত নাটকগুলো বিনোদনের ষোলকলায় পূর্ণ। ইউটিউবে নাটকগুলোর নাম ধরে খুঁজলেই সবগুলো পর্বই পাওয়া যাবে।

যারা নাটকগুলো দেখেননি তারা দ্রুতই একটা শিডউল করে ফেলতে পারেন। আর যারা দেখেছেন তারা নতুন করে আবারও চোখ বুলাতে পারেন। হয়তো নতুন অনেক কিছুই আবিষ্কার করবেন যা নাটকটি আগে দেখে অনুভব করেননি।

নাটকগুলো নিমিষেই মন ভাল করে দেবে। ঘরবন্দীর এই সময়টাতে বিনোদন খুব দরকার মানসিক জোর বৃদ্ধিতে। আর সেই জোর বাড়াতে টনিক হতে পারে নন্দিত হুমায়ুন আহমেদের এই সৃষ্টিকর্মগুলো।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর