• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১১ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
হোটেল গ্র্যান্ড সিলেটের বাবুর্চির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
৩২

ভয়ে কাঁদছিল শিশু, ডাকাতরা বলল ‘খুন করে ফেলবো’

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২২  

বাসে উঠে সবার হাত বেঁধেই একে একে তল্লাশি চালাতে থাকে ডাকাতরা। এসব দেখে কাঁদতে থাকে এক শিশু। এর আওয়াজ পেয়ে ডাকাতরা বলল ‘কাঁদলে খুন করে ফেলবো।’
সেদিনের ঘটনার এমনই বর্ণনা তুলে ধরেন বাসযাত্রী শিশুটির বাবা হেকমত আলী। তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সালিমপুর এলাকার ফল ব্যবসায়ী।

হেকমত আলী বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্ত্রী, চার বছরের ছেলে, দুই বছরের মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হই। রাত ৮টার দিকে দৌলতপুরের প্রাগপুর থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ছেড়ে আসে। সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকা থেকে আমরা বাসে উঠি। বাসে তখন ১০-১৫ জন যাত্রী ছিলেন।

বাসটি ভেড়ামারা লালন শাহ সেতু ও বনপাড়া হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জে একটি হোটেলের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে বিরতি শেষে পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলতে থাকে।

এ বাসযাত্রী বলেন, রাত ১২টার দিকে মহাসড়কের ওপর একটি জায়গায় বাসের সামনে হাত তুলে ইশারা দেন চার তরুণ। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন বাসচালকের সহকারী। দু-এক মিনিটের মধ্যে তরুণরা বাসে ওঠেন। পরে সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে বাসের পেছনের দিকে বসেন। তবে চারজনের মুখেই মাস্ক ছিল। তাদের একজনের পিঠে ছিল ব্যাগ। তারা পেছনে বসার পরপরই মোবাইল টিপতে থাকেন। বাস আরো ১৫ মিনিটের মতো চলে। এরপর সড়ক থেকে আরো পাঁচজন একইভাবে বাসে ওঠেন। তারাও কয়েকটি সিটে বসে পড়েন।

কয়েক মিনিট পর আরেকটু সামনে গিয়ে আরো দুজন ওঠেন। এর পরপরই চালককে বাস থামাতে বলা হয়। থামাতে রাজি না হলে চালককে মারধর করে ডাকাতদল। এর মধ্যে দ্রুত চালকের আসনে বসে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন এক তরুণ।

হেকমত আরো বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসের প্রতিটি সিটের পাশে পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন ১০ তরুণ। পুরুষ যাত্রীদের গলায় তারা ছুরি ও কাঁচি ধরে রাখেন। এর মধ্যে তিন-চারজন দ্রুত বাসের পর্দা কেটে পুরুষ যাত্রীদের মুখ, হাত ও পা বেঁধে ফেলেন। বাসের মাঝখানের লম্বা জায়গায় মাথা নিচু করে তাদের বসিয়ে রাখেন। বাসে থাকা ১০-১২ জন নারী যাত্রীর মধ্যে একজনের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলা হয়। বাকিদের চোখ, মুখ ও হাত খোলা ছিল। ওই নারী আমার শাশুড়ি। বাস তখন স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে। বাসের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। আটকে দেওয়া হয় জানালার সব গ্লাস।

তিনি বলেন, ভোরে পুলিশ আসার পর কয়েকজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়। কয়েকজনকে নেয়া হয় থানায়। এ সময় পুলিশ তাদের দুটি ছবি দেখায়। ছবির দুজন বাসের মধ্যে ছিল বলে যাত্রীরা নিশ্চিত করেন। এরপর বুধবার সারাদিন মধুপুর থানাতেই ছিলেন যাত্রীরা। রাত ৯টার দিকে বিআরটিসি বাসে করে পুলিশ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আমাদের কুষ্টিয়ায় পাঠায়।

হেকমত আলীর স্ত্রী জেসমিন আরা বলেন, সিটে এক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মাথা নিচু করে সৃষ্টিকর্তার নাম নিচ্ছিলাম। সামনে আরেক সিটে আমার মা বসেছিলেন আরেক সন্তানকে নিয়ে। তার হাত, চোখ ও মুখ বাঁধা ছিল। ভয়ে আমার শিশু কাঁদছিল। এজন্য ডাকাতরা বলছিল খুন করে ফেলবো।

জেসমিন আরো বলেন, ডাকাতদল সব লুটে নেয়ার পর একে অপরকে ডাকাডাকি করেন। ডাকাতদলের সরদারকে তারা ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করছিলেন। মাঝে মধ্যে নুরু, সাব্বির, রকি নামেও ডাকা হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে ডাকাতরা টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি শুরু করেন। বাসের ভেতরে ভাগাভাগি নিয়েও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সড়কের এক পাশে গাড়িটি থামিয়ে দ্রুত নেমে চলে যান তারা। বাসের ভেতর কোনো যাত্রী মাথা উঁচু করলে বা কথা বলার চেষ্টা করলে ব্যাপক মারধর করা হয়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার