সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ১০ ১৪২৬   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

সর্বশেষ:
শিগগিরই জাপানে জনশক্তি রফতানি করতে চুক্তি সই জামালপুরে নতুন ডিসি ৭৮৯ কোটি টাকার বাজেট পেলো নগরবাসী কাবিন থেকে ‘কুমারী’ শব্দ তুলে দেয়ার নির্দেশ মাত্র তিন দিনে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট!
৬০

ভাগাড়ের গন্ধে অতিষ্ঠ জনগণ!

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০১৯  

দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চন্ডিপুল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গার দুই পাশই এখন যেন ময়লার ভাগাড়। ওখান থেকে আরো এক কিলোমিটার পরেই সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও সেখানে না গিয়ে রাস্তার দুপাশেই ফেলে দেয়া হচ্ছে সিসিকের সব ময়লা-আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে দুর্গন্ধে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। এতে করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথচারী, যানবাহনের আরোহীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেই সাথে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

সিসিক ও স্থানীয় কাউন্সিলরের তদারকির অভাব, খামখেয়ালি এবং সিসিকের কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারণে এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এলাকাবাসী জানান, কয়েকবছর থেকে ওই এলাকায় ময়লা ফেলা শুরু হয়। গভীর রাতে ও ভোর রাতে কে বা কারা ভ্যান বা ট্রাকযোগে ময়লা ফেলে যায়। এসব কারণে দুর্গন্ধ তো আছেই। বিশেষ করে, পথটি অতিক্রম করার সময় বেশি কষ্ট করতে হয়। এছাড়া যখন এই স্থানে যানজট লাগে, তখন গাড়িতে থাকা যাত্রীরা মুখ চেপে বসে থাকে। এ বিষয়ে কয়েকবার স্থানীয় কাউন্সিলরকে অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয়নি।

তবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম পিন্টু বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর থেকে কয়েকবার পরিষ্কার করিয়েছি। তবুও এখানে ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। কারণ সকালে বিভিন্ন আড়তের ব্যবসায়ীরা যাওয়ার সময় পচা-নষ্ট দুর্গন্ধযুক্ত মালামাল এখানে ফেলে যান। এছাড়া ভোর রাতে শহরে ঢোকার সময়ও ব্যবসায়ীরা ময়লা ফেলে যায়। এতে এখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হুমায়ুন রশীদ চত্বরের পার্শ্ববর্তী ব্রিজ থেকে চন্ডিপুলে যাওয়ার আগ (মারুফ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ) পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জায়গা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ময়লার স্তুপ জমে আছে। সিলেট থেকে বের হওয়ার সময় কয়েক মিনিট ময়লার দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। এসময় ময়লার দুর্গন্ধে যাত্রীরা মুখ চেপে বসে থাকেন।

আবদুল আওয়াল নামে এক মাইক্রোবাস চালক বলেন, সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে এভাবে ময়লা ফেলা ঠিক হয়নি। কারণ যখন আমরা যাত্রী নিয়ে সিলেটে প্রবেশ করি, তখন এখানে আসা মাত্রই দুর্গন্ধে যাত্রীরা নানা মন্তব্যে করে। এছাড়া জ্যামে পড়লে তো কথাই নেই। দীর্ঘক্ষণ ময়লার স্তুপে বসে থাকতে হয়।

এমন ময়লা-আবর্জনার একজন ভুক্তভোগী হলেন- সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু। তিনি বলেন, হুমায়ুন রশীদ চত্বর হচ্ছে সিলেটের প্রবেশদ্বার। এখানে ময়লার স্তুপের কারণে সিলেট আগত পর্যটকদের মনোভাব খারাপ হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা এখানে ময়লা ফেলার কারণে আশেপাশের গ্রামগুলোর পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ বিষয়ে সিসিকের নজর দেয়া জরুরী।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন যেভাবে নগরী থেকে আবর্জনা সরানোর কাজ করছে, তেমনি হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকার মহাসড়কটিতেও কাজ করতে পারে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ময়লার স্তুপ জমে থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। এজন্য দ্রুত সিসিককে উদ্যোগ নিতে হবে, পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কালই (আজ) আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করবো। যদি এরকম হয়ে থাকে, তাহলে শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর