• মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
করোনায় সরকারি চাল পেয়েছে এক কোটি ৬ হাজার পরিবার ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৪১৯ জরিমানায়ও কাজ না হলে মাস্ক পরা নিশ্চিতে আরও কঠোর হবে সরকার বিভাগীয় শহরে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষা, এমসিকিউ ৪০ লিখিত ৪০ ‘লন্ডন লাভ’ সিনেমায় শাকিবের নায়িকা কৌশানি রাজনগরে মাস্ক না পরায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শাবির ৭০৩ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন ইউজিসি থেকে সুদবিহীন ঋণ

ব্যাংক ঋণ পরিশোধে এগিয়ে কৃষকরা 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা যথা সময়ে পরিশোধ করছে না দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা। ফলে খেলাপী ঋণে পর্যদুস্ত দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তবে কৃষি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে একধাপ এগিয়ে দেশের কৃষকরা। 

করোনায় পুরো অর্থনীতি যেখানে বিপর্যস্ত, সেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ঋণ শোধ করেছেন তারা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল হাকিম বলেন, ‘কৃষিঋণ আদায় বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাংকগুলোর প্রতি চাপ নেই। বরং আমরা বিতরণ বাড়াতে চাপ দিচ্ছি।‘

তার মতে, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায়, আদায় বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ’কৃষকদেরকে ঋণ দিতে অনেক ব্যাংক অনীহা থাকে। কিন্তু এরা ঋণ ফেরতের দিক দিয়ে এগিয়ে। কারণ তারা ক্ষমতাহীন।

‘টাকা ফেরত না দিলে ঠিকেই বিপদে পড়বে। এই ভয়ে তারা টাকা দিয়ে দেয়। কিন্তু শিল্প খাতে বড় বড় ঋণ খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগই জালজালিয়াতি করে টাকাগুলো বের করে নেয়া হয়েছে। এর অনেক শক্তিশালী। তফাতটা এখানেই।’

বন্যা কবলিত এলাকায় কৃষি ঋণ আদায় বন্ধ রাখার পরও, আদায়ের এ চিত্র নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবি রাখে।

চলতি বছরের ২৩ জুলাই বন্যা কবলিত এলাকায়, পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কৃষিঋণ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চালু রাখতে বলা হয়, নতুন ঋণ বিতরণ কর্মসূচিও।

এ সময়ে নতুন করে ছয় হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ পান কৃষকরা, যা বছরের লক্ষ্যমাত্রার ২৫ দশমিক ২২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে টাকার অঙ্কে যা ৩১৮ কোটি টাকা বেশি।

চলতি অর্থবছরে ৫৯টি ব্যাংকের ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শস্য উৎপাদনে তিন হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি সেচ যন্ত্র কিনতে ৫৬ কোটি টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে ৪২ কোটি টাকা, পশুপাখি ও হাঁস মুরগি পালনে ১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা, মাছ চাষে ৭২৪ কোটি টাকা, শস্য সংরক্ষণ ও বিপণনে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্যান্য খাতে পল্লি ঋণ বিতরণ হয়েছে এক হাজার ১৫৭ কোটি টাকা।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে কৃষিঋণের স্থিতি বা পরিমাণ ৪৩ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক ছয় হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।

মূলধারার কৃষিঋণের পাশাপাশি বর্তমানে কৃষিখাতে চার শতাংশ সুদে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায়ও কৃষিঋণ দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। তবে এ খাতের ঋণ বিতরণে অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার