• বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৭

  • || ১৩ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ আগামী সপ্তাহে সিলেট বিভাগের আরও ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার সব আসামি খালাস রিফাত হত্যা মামলার রায়, মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি আজমিরীগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা বাংলাদেশ থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচলে চুক্তি স্বাক্ষর
৬৪

বিয়ানীবাজারে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে `ভার্মি কম্পোস্ট`

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সবজি চাষে ব্যবহারে সফলতা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)। সিলেটের বিয়ানীবাজারে কৃষকেরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে এখন কেঁচো সার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
রাসায়নিকের পরিবর্তে কেঁচো সার ব্যবহারে কৃষকদের ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। বাজারে কেঁচো সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উৎপাদনে নেমেছে। এক্ষেত্রে শিক্ষিত যুবক এবং নারীরাও পিছিয়ে নেই। কৃষকরা কেঁচো সার দিয়ে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। রাসায়নিক সার ছাড়াই ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ ও টমেটোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করছেন কৃষকরা।

উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের কৃষাণী পারুল বেগম স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। তার দেখাদেখি আশপাশের কৃষকরা ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। বিকল্প হিসেবে কেঁচো সার ব্যবহার করছেন। তার উৎপাদিত জৈব সার এখন বিক্রি হচ্ছে অন্য কৃষকদের কাছে। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছে কোঁচো সার বিক্রি করে বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে পারুল বেগমের। 

পারুল বেগম জানান, প্রথমে ৬টি রিং দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করলেও পরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আরও ৬টি রিং যুক্ত করেছেন তিনি। ৪/৫ দিন পূর্বে  ২১০ কেজি সার ও ৭ হাজার টাকার কোঁচো বিক্রি করেছেন তিনি।

শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ যুবক আব্দুর রব জানান, সবজি চাষে ব্যবহারে সফলতা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় প্রশিক্ষণ নিয়ে কেঁচো সার উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি। আবর্জনা, গোবর ও কচুরিপানা মিশিয়ে বস্তায় ভরে ১০ থেকে ১৫ দিন রাখতে হয়। পরে বস্তা থেকে বের করে সিমেন্টের রিং স্লাবে রেখে সেখানে কেঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়। এভাবেই কয়েক দিন পর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি হয়ে যায়। ভার্মি কম্পোস্টের ভালো বাজার তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগেও এখানকার কৃষকরা ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাসায়নিক সার ছেড়ে কেঁচো সারের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন তারা। ইতোমধ্যে কেঁচো সার ব্যবহারে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। কেঁচো সার মাটির জৈবশক্তি বৃদ্ধি করে। ফসলে পানি সেচ কম লাগে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফসল উৎপাদনে কৃষকের চাষ খরচ অনেক কম হয়। ফসলের ফলন বৃদ্ধিসহ পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামান বলেন, রাসায়নিক সারের চেয়ে তুলনামূলক খরচ কম এবং জমির জন্য অতন্ত উপকারী হওয়ায় জৈব সার উৎপাদনে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। চলতি বছরে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই সার পঞ্চখ- ভার্মি কম্পোষ্ট নামে বাজারজাকরণ করার সবধরনের পক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর