• রোববার   ০৭ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৫ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু হবিগঞ্জ করোনা আতঙ্ক: ফুটপাতের খাবারের ব্যবসায় মন্দা বাংলাদেশি সেনাদের নিয়ে গর্ব করা উচিত: অ্যান্তোনিও গুতেরেস জুড়ীতে আরও ২ জনের করোনা শনাক্ত লোভাছড়ায় রাতের আঁধারে পাথর বহন, রাজস্ব ফাঁকি বড়লেখায় করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করলো প্রশাসন স্ত্রীর পর সাবেক মেয়র কামরানও করোনায় আক্রান্ত
১৬৫৬

‘বিরল’ অভিবাদনে মহানায়ককে বিদায়

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২০  

লাল-সবুজ রংয়ের দুই নম্বর জার্সিটা চিরতরে তোলা থাকবে কি না, তা কে জানে। শুক্রবারের ‘সিলেটী রাতে’ একটা দুই নম্বর যেভাবে শ্রদ্ধার আবেশে এগারোটায় পরিণত হয়ে গেল, তাতে এই আন্দাজ করাই যায়। শচীন থেকে শুরু করে লারার মতো রথী-মহারথীর রাজসিক বিদায় দেখেছে ক্রিকেট পিপাসীর চোখ; কিন্তু চূড়ান্তভাবে খেলা ছাড়ার আগে একজন অধিনায়কের এমন বিদায় কজন দেখেছে! ইএসপিএন স্টার স্পোর্টসের ভারতীয় ধারাভাষ্যকার গৌতম ভিমানী তাই বলেই ফেললেন, এ রাত বিরল রাত।

‘প্রিয়’ এলাকাবাসী তাকে চেনে কৌশিক নামে। তার আগে চিনত চাচার দেওয়া নাম মখসুম আজম নামে। সেই তিনি নড়াইল থেকে উঠে এসে এই বদ্বীপের ক্রিকেট রাজ্য শাসন করে গেলেন। রাজা হয়ে নয়। ‘মাশরাফী ভাই’ হয়ে, বন্ধু হয়ে। জিম্বাবুয়েকে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১২৩ রানে হারিয়ে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকরা সেই ‘ভাই-বন্ধুকেই’ হৃদয় উজাড় করা অভিবাদনে নেতৃত্ব ছাড়ার বিদায় বলেছেন।

অন্য সবার মতো দুই নম্বর লেখা জার্সি পরে মাঠে আসা তামিম ইকবালের তো গলাই ধরে আসছিল। উপস্থাপকের সঙ্গে আলাপের সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা খুঁজতে গিয়ে ফিরে যান ২০১৪ সালে, ‘তিনি (মাশরাফী) অবিশ্বাস্য। ২০১৪ সালে আমরা কোথাও ছিলাম না। সেখান থেকে এমন একটা অবস্থায়, যেখানে গোটা বিশ্ব আমাদের গুরুত্ব দেয়।’

ব্যক্তি তামিমের কাঁধে মাশরাফী কীভাবে দিনের পর দিন সমর্থনের হাত রেখেছেন সেটিও জানান ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি করা ওপেনার, ‘অনেকে আমাকে বাদ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করেছেন।’

তামিমের সঙ্গে যৌথভাবে সিরিজ সেরা হওয়া লিটন দাসের কণ্ঠেও ছিল একই সুর, ‘তিনি আমার কাছে অন্য রকম। তার অধীনে অভিষেক হয়েছিল। সব সময় সমর্থন করেছেন। বুঝিয়েছেন। তাকে আমরা মিস করব।’

আরেক সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম মানুষ মাশরাফীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও তিনি অসাধারণ। তার খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত। যেভাবে বল করছেন তাতে আরও দুই বছর খেলতে পারেন।’

অধিনায়ক হিসেবে ৮৮টি ম্যাচ খেলে ৫০টিতে জয় পাওয়া মাশরাফী এই সিরিজের আগে ফর্ম হারিয়ে ফেলেন। ‘শেষ’ ম্যাচে এসে কিছুটা হলেও সেই চিরচেনা ছন্দে ফেরেন।
তার প্রথম স্পেলে গতিতে চোখে পড়েছে নান্দনিক পরিবর্তন। লেংথে প্রায় নিখুঁত। তরুণ বয়সের সেই অফকাটারটাও ছিল। আর রাইজিং ডেলিভারি তো দেখার মতো, যাতে একমাত্র উইকেটটা নেন। এই তিন ওভার থেকে ২১টি রান দিলেও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যান।

পরে আরও তিন ওভার হাত ঘোরান। সব মিলিয়ে ৪৭ রান খরচ করেন। এর মধ্যে ওয়াইড একটি। কোনো রান দেননি ১৪টি বলে।

সাত বারের মতো হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাতে হওয়া মাশরাফী গতি আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তরুণ বয়সে বিশ্বক্রিকেটের নজর কাড়েন। মোস্তাফিজুর রহমান আসার আগে তার অফকাটার ছিল বাংলাদেশি পেসারদের অন্যতম সফল ডেলিভারি। সেই সঙ্গে ওই অফ-করিডরে যেভাবে একই লেংথে বল ফেলতে পারতেন, তা খুব কম বোলারই করে দেখিয়েছেন।

সর্বনাশা ইনজুরি মাশরাফীর এই সক্ষমতায় বাধ সাজে। এক সময় বাধ্য হয়ে গতি কমাতে হয়। তাতে অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে যেমন তিনি সফল, তেমনি বোলার হিসেবেও দেশজ ক্রিকেটের সেরাদের একজন।

‘আমি সব সময় বলি মোস্তাফিজ আমাদের চ্যাম্পিয়ন। সাইফউদ্দিন তরুণ তুর্কি। ইনজুরি থেকে দারুণভাবে ফিরেছে। আশা করি তারা ভবিষ্যতে এই পারফরম্যান্স ধরে রাখবে,’ পাঞ্জেরি মাশরাফী বিদায়বেলায় এভাবে গেয়েছেন উত্তরসূরিদের জয়গান। গাইবেনই-বা না কেন। নামটা যে তার মাশরাফী। যার সহজ অর্থ বিনয়ী, ভদ্র।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
খেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর