বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

সর্বশেষ:
অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অ্যাকশনে পুলিশ সিলেটে ছিনতাই করে ঢাকায় পালিয়ে গিয়েও রক্ষা হলনা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন আজ সড়ক ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১৬

বকুলতলায় শরতের স্নিগ্ধ উৎসব ছায়ানটের

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০১৯  

এই মেঘ, এই রোদ-শরতের চিরন্তন স্বভাব। আজ সকালের এই শরতের আকাশ ছিল রীতিমতো রোদেলা উষ্ণ। তবু শরতের রূপকে মেলে ধরে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ছিল এ আয়োজন।

আজ শুক্রবার ছুটির দিনে ঢাকা শহরের ঘুম তখনো ভালো করে ভাঙেনি। পথ ছিল ফাঁকা। টিএসসিতে তারুণ্যের আড্ডা জমতে ঢের দেরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের গাছগাছালির মাথায় তখন সূর্যকিরণের স্পর্শ। এমন পরিবেশে চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় মঞ্চ সাজানো হয়েছে কাশফুলসহ নানা প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ দিয়ে। সকাল সাতটায় ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। নূপুরের ধ্বনি, তবলা ও মন্দিরার অপূর্ব সমন্বয়ে চলে নাচ, গান।

একদিকে গানের প্রস্তুতি আর অন্যদিকে নিজেকে রাঙানোর চেষ্টা নৃত্যশিল্পীদের। এরপর ছিল একক পরিবেশনা, অভয়া দত্ত শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘আমার রাত পোহাল’। ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’ শোনান শ্রাবণী মজুমদার। তারপর আবারও দলীয় নৃত্য ও গান। ‘আলোর অমল কমল খানি’ শোনান ছায়ানটের শিল্পীরা। গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমবেত নৃত্য।

সমবেত নৃত্য ও গীত পরিবেশনা শেষে ছিল পরপর চারটি একক গান। একক গানের পর্ব সাজানো হয় রবীন্দ্রনাথের গান দিয়ে। সুতপা সাহা শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘ওগো কে যায় বাঁশরি’, মোস্তাফিজুর রহমান শোনান ‘আমি চঞ্চল হে’, তানিয়া মান্নান শোনান ‘এসো শরতের অমল মহিমা’ আর শ্রেয়া ঘোষ শোনান ‘সকরুণ বেণু বাজায়ে কে যায়’।

অনুষ্ঠানের নানা পর্বে আইরিন পারভিন শোনান ‘এই তো আমার প্রেম’, শুক্লা পাল শোনান ‘যে ছায়ারে ধরব বলে’, অসীম দত্ত শোনান ‘তোমার সোনার থালায়’ নাঈমা ইসলাম শোনান ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’, পার্থ প্রতিম রায় শোনান ‘আমি চিনি গো চিনি’ ও সেঁজুতি বড়ুয়া শোনান ‘কেন যে মন ভোলে’।

একক গানের পাশাপাশি সম্মেলক নৃত্য পর্বের সবগুলো গানই ছিল রবীন্দ্রসংগীত। ছায়ানটের খুদে ও বড় শিল্পীদের দল ‘শরতে আজ কোন অতিথি’, ‘আমার নয়ন ভুলানো এলে’, ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’। ফারজানা আক্তারের ‘তোমার যা বল তাই বল’ গানটির সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন সুদেষ্ণা স্বয়ংপ্রভা।

শরৎ বন্দনার এ আয়োজন প্রসঙ্গে ছায়ানট সম্পাদক লাইসা আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো ছয় ঋতুর দেশ তো কোথাও পাওয়া যাবে না। আমরা যে প্রকৃতির সন্তান, তা এ ঋতুচক্রের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারি। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঋতুচক্রের মতোই আমরা মিলেমিশে আছি। একই সঙ্গে এ উৎসবের মধ্যে দিয়ে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের চর্চা করি। গানের মধ্য দিয়ে আমরা ঋতুর মতো সবার সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি করি। সেই জায়গা থেকেই প্রীতি ও ভালোবাসার টানে সবার একত্র হওয়া।’

ঐতিহ্য অনুযায়ী জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেড় ঘণ্টার এ সাংস্কৃতিক আয়োজন। তার আগে ‘আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে শরৎ বন্দনা শেষ করেন ছায়ানটের শিল্পীরা।

পুরো অনুষ্ঠানে যন্ত্রানুষঙ্গে তবলায় ছিলেন এনামুল হক ও সুবীর সেন। মন্দিরায় প্রদীপ রায় ও এসরাজে অসিত বিশ্বাস। অনুষ্ঠানস্থলে ছিল ছায়ানট সভাপতি সন্‌জীদা খাতুনের উজ্জ্বল উপস্থিতি।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর