• মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত করলো বিসিবি বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মাহবুবে আলম ৪৫ বছরে দেশের সবচেয়ে সফল রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা: কাদের অস্ত্র মামলায় প্রতারক সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমসি কলেজে গণধর্ষণ: গভীর রাতে রাজন গ্রেপ্তার এমসি কলেজে গণধর্ষণ: আরও ২ আসামি গ্রেফতার শুভ জন্মদিন প্রধানমন্ত্রী
৩৫৫

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকারি যত উদ্যোগ 

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২০  

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বজুড়ে লকডাউন এবং অচলাবস্থার কারণে বহুমাত্রিক সংকট দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে। প্রবাসে বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা একদিকে বেতন পাচ্ছেন না আবার অনেকে ছাটাই এবং মজুরি হ্রাসের কবলে পড়েছেন।

পৃথিবীর ১৬৯টি দেশে বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি মানুষ কাজ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশেরই কর্মসংস্থান মধ্যপ্রাচ্যে। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের অনেকেই এখন বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারছেন না। চাকরি নিয়েও আছে দুশ্চিন্তা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে করোনা মহামারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশে ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলশ্রুতিতে প্রত্যাগত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের উপার্জন অনেকাংশে কমে যাবে। এছাড়া বিদেশে থাকা এক কোটি লোকের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৫০ লাখ লোকের এই মুহূর্তে কোনো কাজ নেই।

এপর্যন্ত বিশ্বের ১৭ টি দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি৷ মারা গেছেন ৫৮৬ জন৷ তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০ জন, যুক্তরাজ্যে ২০০ , সৌদি আরবে ৭৬ , কুয়েতে ১৭, ইটালিতে আট, কানাডায় সাত, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছয়, ফ্রান্স ও স্পেনে পাঁচ জন করে, কাতারে চার, সুইডেনে দুই, মালদ্বীপ, পর্তুগাল, কেনিয়া, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও গাম্বিয়ায় এক জন করে বাংলাদেশি মারা গেছেন৷

এদিকে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তায় পড়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান রক্ষা এবং দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, আমরা এ সংকট মোকাবেলার জন্য পরিকল্পনা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের ঋণ দেয়া হবে যাতে এখানে কিছু করতে পারেন। এছাড়া বিদেশে শ্রমিকদের দেখভালের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে বিতরণ করা হয়েছে।

দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের করোনা কালীন সমস্যা দূর করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কষ্ট লাঘবে সচেষ্ট থাকতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিশন প্রধানদের পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। 

জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটি ২৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি শ্রমিকেরাও পড়েছেন বিপদের মুখে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের থাকা শ্রমিকেরা। দেশের প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান। যদিও সম্প্রতি কিছু দেশে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বিদেশে প্রবাসী কর্মীদের খাদ্য, আবাস, ঔষধ ও অন্যান্য প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার এ অর্থ সহায়তা প্রদান করবে।

দেশের অর্থনীতির যারা হাল ধরে আছেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বিপদে পড়া সেই সব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সহযোগিতায় সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পদ্ধ পরিকর।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর