বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

সর্বশেষ:
অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অ্যাকশনে পুলিশ সিলেটে ছিনতাই করে ঢাকায় পালিয়ে গিয়েও রক্ষা হলনা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন আজ সড়ক ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
৪৫

নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসেন না কর্মকর্তারা

সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০১৯  


 

সিলেটের ওসমানীনগরে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসেন না। তারা যখন ইচ্ছে আসেন, যখন ইচ্ছে চলে যান তারা। এতে করে উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকজন দুর্ভোগে পড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলে আসলেও তা যেন দেখার কেউ নেই। ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ওসমানীনগর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা সরেজমিনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসেনর বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান।

সরেজমিনে গিয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন অফিসস্থ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিসে, দুপুর ১২টার পর্যন্ত তাজপুর বাজারস্থ পরিসংখ্যান ও দারিদ্র বিমোচন অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়। সকাল ১০টা ৪০মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের ভবনে থাকা উপজেলা মৎস্য ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পাওয়া যায়।

তবে পৌনে ১১টার দিকে উপজেলা নবাগত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মমিন মিয়াকে হিসাব রক্ষণ অফিসে পাওয়া যায় এবং ১১টার দিকে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানিকে অফিসে আসতে দেখা যায়।

একই ভাবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে একজন এমএলএসএস ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যান্যরা ছুটিতে রয়েছে বলে জানান এমএলএসএস আলমগীর। একই সময়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসে গিয়েও হিসাব সহকারি ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে পৌনে ১১টার দিকে অফিস সহকারি সাবেকুন নাহারকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ১১টা ৪৩ মিনিটের সময় তাজপুর কদমতলাস্থ উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়ে একজন নিরাপত্তা প্রহরি ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। উপ খাদ্য পরিদর্শক মূর্শেদা বেগম অফিসে আসেননি বলে নিরাপত্তা প্রহরি সেলিম মিয়া সাংবাদিকদের জানান। দুপুর ১২টায় তাজপুর বাজারস্থ উপজেলা তথ্য অফিসে গিয়েও তথ্য কর্মকর্তা লাকিমা খাতুনকে পাওয়া যায়নি। তিনি বাইরে রয়েছেন বলে জানা যায়।

উপজেলা পরিস্যংখান অফিসের জুনিয়র পরিসংখ্যান সহকারি মোশাহিদ আলী বলেন, আমাদের অফিসে স্টাফে মাত্র দুজন। একজন ছুটিতে রয়েছেন। আমি অফিসের কাজে বালাগঞ্জে ছিলাম।
উপ-খাদ্য পরিদর্শক মূর্শেদা বেগম জেলার সভায় অংশ গ্রহণের জন্য অফিসে আসেননি বলে জানান।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহিমা খানম বলেন, ফিল্ডে কাজে থাকায় আমি বাইরে আছি। জনবল না থাকায় অফিস তালাবদ্ধ রাখতে হয়।

অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এসআর কিবরিয়া বলেন, সময় মতো অফিসে না আসা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তাহমিনা আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। তবে সরকারি কোন অফিস তালাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়। এমনটি হয়ে থাকলে আগামী সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার