• মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
শামসুদ্দিন হাসপাতালে রোগী ও কর্মরতদের ফল উপহার দিলেন সেলিনা মোমেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির ঈদ শুভেচ্ছা করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রপতি করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ১৯৭৫, মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার
১১১

তেতলীতে গণধর্ষণ মামলার দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০১৯  

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী (চেরাগী) গ্রামে গণধর্ষণের শিকার হওয়া বিশ্বনাথের পপি বেগম (২১) গণধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি। তারা হলো জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও তার সহযোগী বারিক মিয়া (৩৭)। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া’র আদালতে জবানবন্দি দেয় তারা। জাহাঙ্গীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী (চেরাগী) গ্রামের আজিজুর রহমানের পুত্র ও বারিক একই গ্রামের আবদুল মনাফের পুত্র।

আসামীদের জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রমা প্রসাদ চক্রবর্তী জানান, বিশ্বনাথ থানায় দায়েরকৃত গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরকে গত ১৭ অক্টোবর র‌্যাব-৯ গ্রেপ্তার করে  থানায় হস্তান্তর করে। এরপর ১৮ অক্টোবর জাহাঙ্গীরকে আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৫দিনের রিমান্ডে শেষে ফের তাকে আরোও ৩দিনের রিমান্ডে আনে পুলিশ।

মামলার অপর আসামি বারিক গত ২০ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে। পরদিন আদালতে তার ৩দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর গত ২২ অক্টোবর তাকেও রিমান্ডে আনা হয়। ৩দিনের রিমান্ডের মধ্যে দুই দিনের মাথায় তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। গত বৃহস্পতিবার তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলার অপর দুই আসামি তেতলী (চেরাগী) গ্রামের মৃত আবদুল মন্নানের পুত্র ফয়জুল ইসলাম (২৮) ও একই গ্রামের মৃত মতছির আলীর পুত্র জাহেদ (২২) জেল হাজতে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বনাথের লালটেক গ্রামের শুকুর আলীর মেয়ে পপি বেগম গত ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী (চেরাগী) গ্রামস্থ তার বোনের বাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হয়। পরদিন সকালে সে বোনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। পপির লাশ দাফনের দুই দিন পর তার ব্যবহৃত ভ্যানেটি ব্যাগে নিজ হাতে লেখা একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) পায় পরিবার। ওই চিরকুটে পপি উল্লেখ করেছে ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে বোনের বাড়িতে অবস্থানকালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে সে ঘরের বাহিরে যায়। তখন পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা জাহাঙ্গীর ও বারিক তার (পপির) মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায় বাড়ির পাশ্ববর্তী জঙ্গলে। তখন তাদের পায়ে ধরে কান্না কাটি করতে থাকলেও জাহাঙ্গীর-বারিক-জাহেদ গংরা রাতভর পপিকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এরপর পুনঃরায় পপিকে তার বোনের বাড়িতে (যেখান থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, সেই স্থানে) ফেলে রেখে যায়। আর গণধর্ষণের লজ্জা সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে। এঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর পপির বাবা শুকুর আলী বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, গণধর্ষণ করত: আত্মহত্যার প্ররোচনা এবং সাক্ষ্য ঘটনা আড়াল করার অপরাধ আইনে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৫ (তাং ১৪.১০.১৯ইং)। মামলার দায়েরের পর পৃথক পৃথক অভিযানে জাহাঙ্গীর আলম, জাহেদ মিয়া ও ফয়জুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাব-৯ ও পুলিশ। আর অপর আসামী বারিক মিয়া আদালতে আত্মসর্পণ করেন।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর