মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
লিফট ছিঁড়ে পড়লেন আমীর খসরুসহ বিএনপি নেতারা টমেটো চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কমলগঞ্জে কৃষকরা! ২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পিঁয়াজ কিনলেন মেয়র আরিফ সিলেটে মহানগরীর ৩টি স্থানে বিক্রি হচ্ছে টিসিবির পেঁয়াজ
৫২

জুড়ীর রত্না চাবাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৯  

 


মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত রত্না চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগছে।

২০১১ সালে রত্না চা বাগানে বাগান কর্তৃপক্ষ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। বাঁশের বেড়া ও টিন সেডের ঘরে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বাগানের বিশাল মাঠের পাশে বাগান মালিক প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে দেন দৃষ্টিনন্দন ভবন। ২০১৪ সালে এই ভবনে বিদ্যালয় স্থানান্তর হয়। একই বছর বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ২২০ জন শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আজিজ এক বছর পূর্বে অবহেলিত এ বিদ্যালয়ে যোগদেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন। গত বছর ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল । চলতি বছর ভর্তি হয় ২৩৭ জন শিক্ষার্থী। ১০৭ জন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। বিদ্যালয় সংলগ্ন কোন শিশু ভর্তি কার্যক্রমে বাদ পড়েনি। মা সমাবেশে শত ভাগ মায়ের উপস্থিতির ফসল হচ্ছে বিদ্যালয়ে ৯৫ থেকে শত ভাগ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।

প্রধান শিক্ষকের নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয় টিফিনবক্স, স্কুল ড্রেসসহ শিক্ষা উপকরণ। চালু হয়েছে মিড ডে মিল। বিদ্যালয় আঙ্গিনায় আগের মত দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ এখন আর নেই। মানসম্মত শিক্ষা, বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনসহ স্কাউটিংয়েও বিদ্যালয়টি এগিয়ে রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা হয়।

সব বাধা পেরিয়ে বিদ্যালয়টি এগিয়ে গেলেও সংকট শুধুমাত্র বিশুদ্ধ পানির। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দুর করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সহায়তায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্থাপন করা হয়েছিল একটি রিং টিউবওয়েল। কিন্তু পানি লবণাক্ত হওয়ার কারনে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমনকি পানি অতিরিক্ত আয়রণযুক্ত হওয়ায় তা ধোয়ামুছার কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, এমন মনোরম পরিবেশ অন্য কোন বিদ্যালয়ে নেই। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের নান্দনিক ভবন সবার নজর কাড়ে। সবদিকে এগিয়ে থাকলেও বিশুদ্ধ খাবার পানি ও একটি শহীদ মিনারের জন্য বিদ্যালয়টি পিছিয়ে রয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বাগান ব্যবস্থাপক মাহতাব উদ্দিন জমাদ্দার ও প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, খাবার পানির জন্য একটি রিং টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও নোনা পানি ও আয়রণের কারনে তা খাবার ও ব্যবহার উপযোগী নয়। বিদ্যালয়ে একটি গভীর নলকুপ স্থাপন ও ভবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে জুড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চ: দা:) মন্তোষ কুমার দেবনাথ বলেন, জুড়ী উপজেলায় দশটি বিদ্যালয়ে গভীর নলকুপ স্থাপনের জন্য উপজেলা শিক্ষা কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটা অনুমোদন হলেই পানির সমস্যা দুর হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার