সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল সম্পাদক বাবু অপরাধ নির্মুলে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: ওসি রঞ্জন  পেঁয়াজের ঝাঁজে নিম্নবিত্তের কান্না পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে কাল-পরশু এলেই দাম কমবে তরুণরাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশ: এমপি জাহির
১৬

জকিগঞ্জে ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ 

সিলেট (জকিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৯  

জকিগঞ্জে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে বির্তকিত উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বিধান চক্রবর্তী ও প্রশিক্ষক আবু তাহের মাসে চার-পাঁচ দিন অফিস করেন। ওই দুই কর্মকর্তা মাসের বাকি দিনগুলো অনুপস্থিত থাকেন। প্রতি মাসে চার-পাঁচ দিন ব্যাতিত উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসের গেইট থাকে তালাবদ্ধ। কর্মস্থলে তারা দু'জন যোগদানের পর থেকেই এভাবেই করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দু'জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। তদন্তে সত্যতাও মিলেছে এসব অভিযোগের। এরপরও কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন এই দুই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।

সরেজমিনে উপজেলা আনসার কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের একাধিক দিন খোঁজ নিয়ে গেইট তালাবদ্ধ থাকার সত্যতাও পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহের রবিবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত নিয়মিত আনসার কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে গেইট তালাবদ্ধ দেখা যায়। গেইটের সামনে দু' একজন আনসার সদস্যকে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেলে তাদের কাছে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বিধান চক্রবর্তী ও প্রশিক্ষক আবু তাহের চৌধুরী কোথায় এমন কথা জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, ‘দু'জন স্যার অফিসে আসেন মাসে চার-পাঁচ দিন’।

উপস্থিত আনসার সদস্যদের কথা শুনে তাৎক্ষণিক উপজেলা আনসার কর্মকর্তা বিধান চক্রবর্তী ও প্রশিক্ষক আবু তাহেরকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করা হলে ‘তারা অফিসে আছেন বলে জানান’ প্রতিবেদককে। কিন্তু ঐ প্রতিবেদক তখনো অফিসের সামনের গেইটে দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানানো হলে দু'জনই কথা না বলে কল কেটে মোবাইল বন্ধ করে দেন। গেইটের সামনে সুফিয়ান নামের একজন লোক দাঁড়িয়ে অপেক্ষারত থাকতে দেখা যায়। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আনসার প্রশিক্ষণে যাওয়ার জন্য কয়েকদিন থেকে কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসেন। কিন্তু অফিস তালাবদ্ধ দেখে ফিরে যান। সরকারি অফিসে নিয়মিত তালাবদ্ধ পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, প্রতি মাসে চার-পাঁচদিন তারা অফিসে আসেন। তাও মাত্র দুই থেকে তিন ঘন্টা বসেন। অফিসের মূল গেইট সবসময় তালাবদ্ধ থাকে। সাধারণ আনসার সদস্যরা কাগজপত্র নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে তাদের দেখা পাননা। একই কর্মস্থলে দুজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সাধারণ কয়েকজন আনসার সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নানা অনিয়ম দুর্নীতি করেও দু'জন কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। প্রতি মাসে চার-পাঁচদিন অফিস করে বেতন ভাতা উত্তোলন করেন তারা। আনসার সদস্যরা কোন প্রয়োজন মত তাদেরকে পান না। পূজাসহ বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালন করার পর আনসার সদস্যদেরকে নামে মাত্র ভাতা দিয়ে বাকি টাকা বিধান চক্রবর্তী ও আবু তাহের সাবাড় করে দেন। ‘ভাতার টাকা, প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ ও প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে উৎকুচ আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে’। দুর্নীতি দমন কমিশনের টিম অভিযোগগুলোর সরেজমিন তদন্ত করলে এই দুই কর্মকর্তা ফেঁসে যাবেন বলে তাদের ধারণা।

আনসার দলনেতা রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, আনসার প্রশিক্ষণে কেউ যেতে চাইলে বিধান চক্রবর্তী বড় অঙ্কের চাঁদা দাবী করেন। কেউ প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানী করেন। ‘টাকা ছাড়া কথাই বলেন না দু'জন কর্মকর্তা’।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা আনসার কর্মকর্তা বিধান চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন শুনে উত্তেজিত হয়ে বলেন, সাংবাদিকদের আর কোন কাজ নাই নি। সাংবাদিকরা এসব প্রশ্ন করার কে? সাংবাদিকরা তার মোবাইল কল করতে নিষেধ দিয়ে তিনি লাইন কেটে দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা আনসার প্রশিক্ষক আবু তাহেরের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ নিয়ে সিলেট জেলা আনসার ভিডিপির কমান্ড্যান্ট ফখরুল আলমের সাথে মঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিস না করার ঘটনাটি দুঃখজনক। অবশ্যই এই দু'জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই দুই কর্মকর্তার অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দুর্নীতিতে তারা জড়িত এর সত্যতা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আনসার ভিডিপির সিলেট বিভাগীয় পরিচালক সারোয়ার জাহান চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। সরকার প্রতিটি সরকারি অফিসকে যেখানে জনগন বান্ধব ও দুর্নীতি মুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে আনসারের কোন কর্মকর্তা অফিসে অনুপস্থিত থেকে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হবে। আনসার ভিডিপি বাহিনীতে দুর্নীতিবাজ কারো স্থান হবেনা।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার