• সোমবার   ০৮ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭

  • || ২৪ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

চারশ বছরের পুরোনো ইবাদতখানা

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২১  

ছোট্ট পরিসরে নির্মিত দুটি মসজিদ। স্থানীয়দের ভাষায় ইবাদতখানা। প্রায় চারশ বছরের পুরনো মুসলিম সম্প্রদায়ের এ ইবাদতখানাটি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জোরাগাছা ইউনিয়নের নওদাবগা গ্রামে অবস্থিত। এ ইবাদতখানা নিয়ে লিখেছেন সাজেদুর আবেদীন শান্ত-

মসজিদ নির্মাণের সঠিক ইতিহাস ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য কেউ দিতে না পারলেও স্থানীয়রা জানান, ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে এ মসজিদ দুইটি নির্মাণ করা হয়। দুই ভাই নিজেদের ইবাদত-বন্দেগির জন্য পাশাপাশি দুটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং তারা নিজ নিজ মসজিদে নামাজ আদায় করতেন।

এলাকাবাসী জানান, ‘প্রায় ১২ একর জায়গাজুড়ে নওদাবগা জমিদার বাড়িতে দুই ভাই জমিদার আনোয়ার আকন্দ ও জমিদার জালাল আকন্দ তাদের নিজেদের ইবাদতের জন্য আলাদা দুইটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।

জোড়া ইবাদতখানা সম্পর্কে আলোর প্রদীপের চেয়ারম্যান এম এম মেহেরুল বলেন, ‘এই ইবাদতখানাটি প্রায় চারশ বছরের পুরনো। এটিকে মোঘল স্থাপত্যরীতির অনন্য কৃত্বিত্ব বলেও আমরা ধরে নিতে পারি। কেননা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখি মোঘল আমলে বিভিন্ন সময় তারা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জনগণের সুবিধার্তে ইবাদতখানা বা বিশ্রামাগার নামে ছোট ছোট স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। জমিদার বাড়িতে নির্মিত পাশাপাশি এ দুই ইবাদতখানাকেও আমরা এলাকাবাসী তারই একটা নিদর্শন মনে করছি।

বর্তমানে এটির বয়স চারশ বছরের বেশি। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এটি সংস্কার করা হয়। বর্তমানে আমরা এর যে আধুনিক রূপটি দেখছি- তা সংস্কার করেই এ রূপে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানান আলোর প্রদীপের চেয়ারম্যান মেহরুল।

ভ্রমণপিপাসু রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘করোনার এই অবসরে আমি দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখছি। জনমুখে শুনতে পেলাম সোনাতলার নওদাবগায় পুরাতন ইবাদতখানা আছে। তাই আমি আজ এখানে ঘুরতে এসেছি। ইবাদতখানাটি দেখে আমার খুব ভালো লাগলো। মনে হয় আমি অতীত স্পর্শ করতে পেরেছি।

তবে এই নিদর্শনটি সংরক্ষণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া দরকার। কারণ এই নিদর্শনগুলো ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের অতিত ইতিহাস তুলে ধরবে বলেও জানান রিয়াজ।

পাশাপাশি দাঁড়ানো মসজিদ দুইটি চারশ বছরের প্রাচীন। ইসলাম ও মুসলমানদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহের অতিত ঐতিহ্যের চমৎকার একটি নিদর্শন। ভিন্ন দুটি অলংকরণে নির্মিত ইবাদতখানার একটিতে বড় ও উঁচু আকুতির গম্বুজ থাকলেও অন্যটিও প্রায় গোলাকার আদলে তৈরি।

ইবাদতখানা দুটির বাহিরের অংশে পোড়া মাটির ফলকে টেরাকোটার কাজ করা। ধারণা করা হয় পারিবারিক ইবাদতখানা হওয়ার কারণেই হয়তো ছোট্ট এ ইবাদতখানা দুটিতে খুব কম সংখ্যক মানুষই নামাজ আদায় করতো। এটি এখন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা ইবাদতখানা দুটি একনজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা নওদাবগার জমিদার বাড়িতে ঘুরতে আসেন।

উল্লেখ্য ইবাদতখানা দুটির প্রতিষ্ঠাতা জমিদার পরিবারের সদস্য শাহ আমান উল্লাহ টেপা জোড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক দফা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্থানীয় অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করলে নিজ পূর্ব পুরুষদের প্রতিষ্ঠিত ইবাদতখানা দুটির সংস্কার করেননি।

জমিদার বাড়ির চেয়ারম্যান কেন, কী কারণে ছোট ইবাদতখানা দুটির সংস্কার ও মেরামত করেননি এ বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ এর কোনো উত্তর দিতে পারেনি। চেয়ারম্যান কর্তৃক সংস্কার না করার বিয়টিও অজ্ঞাতই থেকে যায়।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার