সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৩ ১৪২৬   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল সম্পাদক বাবু অপরাধ নির্মুলে সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: ওসি রঞ্জন  পেঁয়াজের ঝাঁজে নিম্নবিত্তের কান্না পেঁয়াজ বিমানে উঠে গেছে কাল-পরশু এলেই দাম কমবে তরুণরাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেশ: এমপি জাহির
৯৯

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় করণীয়    

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০১৯  

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটি আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় পয়রা সমুদ্রবন্দর এলাকা থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এ কারণে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে।

বন্যা, খরা, ভূমিধস, টর্নেডো, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর ব্যাপক সম্পদ ও প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে সম্পদ ও প্রাণহানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ফলে প্রাণহানি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে সবারই সতর্কতা প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে জনগণকে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো হল-  
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বে করণীয় 

১. বাড়িতে, গ্রামে, রাস্তায় ও বাঁধের উপর বেশি বেশি গাছ লাগান।  

২. উঁচু জায়গায় টিউবওয়েল স্থাপন করুন,যাতে জলোচ্ছ্বাসের লোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে।

৩. দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়ে যাবে এবং গরু মহিষাদি কোথায় থাকবে তা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।

৪. জেলে নৌকা,লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সকাল,দুপুর ও বিকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস শোনার অভ্যাস করুণ।

৫. সম্ভব হলে বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (ব্যান্ডেজ, ডেটল প্রভৃতি) রাখুন।

৬. জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষায় নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিন।

৭. যথাসম্ভব উঁচু স্থানে শক্ত করে ঘর তৈরি করুন। পাকা ভিত্তির উপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার উপর ছাউনি দিন। ছাউনিতে টিন ব্যবহার না করা ভাল। কারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে মানুষ ও গবাদি পশুকে আহত করতে পারে। তবে ০.৫ মি. মি. পুরুত্ব বিশিষ্ট টিন ও জেহুক ব্যবহার করা যেতে পারে।

৮. ঘূর্ণিঝড়ের মাসগুলোতে বাড়িতে মুড়ি,চিড়া,বিস্কুট জাতীয় শুকনো খাবার রাখা ভাল।

৯. বাড়িতে এবং রাস্তায় নারিকেল,কলাগাছ,বাঁশ,তাল,কড়ই ও অন্যান্য শক্ত গাছপালা লাগান। এসব গাছ ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বেগ কমিয়ে দেয়। এর ফলে মানুষ দুর্যোগের কবল থেকে বাঁচতে পারে।

১০. নারী-পুরুষ,ছেলে-মেয়ে প্রত্যেকেরই সাঁতার শেখা উচিত।

১১. ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে বা অন্য আশ্রয়ে যাবার সময় কি কি জরুরি জিনিস সঙ্গে নেয়া যাবে এবং কি কি জিনিস মাটিতে পুঁতে রাখা হবে তা ঠিক করে সে অনুসারে প্রস্তুতি নেয়া উচিত।

১২. ডায়ারিয়া মহামারীর প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। শিশুদের ডায়ারিয়া হলে কিভাবে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে সে বিষয়ে পরিবারের সকলকে প্রশিক্ষণ দিন।

১৩. আর্থিক সামর্থ থাকলে ঘরের মধ্যে একটি পাকা গর্ত করুন। জলোচ্ছ্বাসের পূর্বে এই পাকা গর্তের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে পারবেন।

১৪. ঘূর্ণিঝড়ের পরে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন। বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। মাটির বড় হাঁড়িতে বা ড্রামে পানি রেখে তার মুখ ভালভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে যাতে পোকা-মাকড়,ময়লা-আবর্জনা ঢুকতে না পারে।

১৫. নোংরা পানি কিভাবে ফিটকারি বা ফিল্টার দ্বারা খাবার ও ব্যবহারের উপযোগী করা যায় সে বিষয়ে মহিলাদের এবং আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিন।

ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী করণীয়

১. আশ্রয়কেন্দ্র হতে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।

২. রাস্তা-ঘাটের উপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।
 
৩. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

৪. অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল,নদী,পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।

৫. ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৬. রিলিফের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোন। রিলিফের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। রিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উৎসাহি করে সেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে।

৭. দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধার কর্মআরম্ভ করুন। কাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাকে উদ্ধার কাজে সাহায্য করা যায়।

৮. পুকুরের বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখুন।
 
৯. নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বন্টন (আলাদা লাইনে) করুন।

১০. দ্রুত উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সব্জির জন্য জমি প্রস্তুত করুন,বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষি কাজ শুরু করুন যাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফসল ঘরে আসে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর