• বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৭

  • || ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
করোনামুক্ত পরিকল্পনামন্ত্রী রায়হান হত্যা: নতুন কর্মসূচি দিলো এলাকাবাসী মুজিবনগরকে দৃষ্টিনন্দন করতে ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্প জগন্নাথপুরে দুদিন ব্যাপী ই-নথি প্রশিক্ষণ শুরু সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসছে নভেম্বরে তাহিরপুর সীমান্তে পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক- ১

গোয়াইনঘাটে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২০  

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জেবুন্নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয় ও কুপার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিময়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের কুপার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি লাইব্রেরিয়ান কাম ক্যাটালগার পদে এবং ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের জেবুন্নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক ও এম এল এস এস নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে, সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও এলাকার যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ দানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবী জানিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন গোয়াইনঘাট উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন ও জৈন্তিয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি, সিলেট বারের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট হাসান আহমেদ।

জানা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে অবস্থিত জেবুন্নাহার সেলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারি, ও এম এল এস এস পদে নিয়োগ দানের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৩১ আগষ্ট বিদ্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ৩০ আগষ্ট পরিচালনা কমিটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে লাক্কাতুরা চা বাগানে অবস্থিত সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। উক্ত বিদ্যালয়ে বিগত ৮ বছর যাবত বিনাবেতনে চাকুরিরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবেদন  সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাতিল করা হয় এবং পছন্দের প্রার্থীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে ধরণের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

অপর দিকে উপজেলার ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের কুপার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান কাম ক্যাটালগার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উল্লিখিত পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য দৈনিক সিলেটের ডাক ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপন অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের পাশাপাশি অত্র বিদ্যালয়ে পাঠদানরত  শিক্ষকবৃন্দ সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেন। প্রধান শিক্ষক সিলেট জেলার বাইরে থেকে আবেদিত উনার পছন্দের  প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদানের জন্য অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে আবেদন করতে বারণ করেন। তার কথায় কর্ণপাত না করে শিক্ষকরা আবেদন করলে, শিক্ষকদের প্রবেশ পত্র আটকিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার অনুরোধ করেন। অনুরোধ সত্বেও শিক্ষকরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকায়, বিনা কারণে সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থাগিত ঘোষণা করেন। পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে বড় ধরণের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে পছন্দের প্রার্থী এনে উক্ত পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার নিয়োগ বঞ্চিত ভুক্তভোগী এক প্রার্থী জানান, তিনি ২০১৩ সাল থেকে অত্র বিদ্যালয়ে বিনাবেতনে কর্মরত রয়েছেন। তাকে আশ্বস্থ করা হয়েছিল বিদ্যালয়টির মাধ্যমিক স্থর এমপিওভুক্ত হলে তাকে বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রদান করা হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দুর্নীতির কারণে তিনি নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন।

অপরদিকে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকদের এমপিও আবেদন, এনটিআরসিএ প্রদত্ত শিক্ষক নিয়োগে এমপিও আবেদন, উচ্চতর স্কেল, বিএড স্কেল পেতে এমপিও আবেদনের ক্ষেত্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বড় ধরণের উৎকোচ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ব্যাপারে মুঠোফোনে তার সাথে কথা বলতে চাইলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুর্নীতির ভয়াল চিত্রের বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়। দুর্নীতির বিরোদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও বৈধভাবে নিয়োগ প্রদানের জন্য উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েস কর্তৃক প্রস্তাব উত্তাপিত হলে সর্বসম্মতভাবে গৃহিত হয় এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


 

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার