• বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ৬ ১৪২৭

  • || ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
করোনামুক্ত পরিকল্পনামন্ত্রী রায়হান হত্যা: নতুন কর্মসূচি দিলো এলাকাবাসী মুজিবনগরকে দৃষ্টিনন্দন করতে ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্প জগন্নাথপুরে দুদিন ব্যাপী ই-নথি প্রশিক্ষণ শুরু সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসছে নভেম্বরে তাহিরপুর সীমান্তে পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদকসহ আটক- ১

গোয়াইনঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষের আশঙ্কা!

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ডৌবাড়ী ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা হওয়ার সম্ভবানা রয়েছে। এতে ইউনিয়নের লংপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ডৌবাড়ী ইউনিয়নের লংপুর গ্রামের বাসিন্দাদের কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

লংপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ মুরব্বি মুছা মিয়া, হাফিজ আব্দুস ছাত্তার, আব্দুস শুকুর, রহমত উল্লাহ, নজরুল ইসলাম, হেলান উদ্দিন ও সাদ-উল্লাহ জানান, লংপুর গ্রামের নাছির উদ্দীন ও লুৎফুর রহমানের বাড়ীর সীমানা নিয়ে দীর্ঘ ৬ বছর থেকে বিরোধ চলমান রয়েছে। বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে নাছির উদ্দীন ও লুৎফুর রহমানের পক্ষে গ্রামের কিছু মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। এরই মধ্যে ঘটে যায় নতুন আরেকটি ঘটনা। সিলেটের কদমতলি এলাকায় লংপুর গ্রামের নাছির উদ্দীন ও আফসার উদ্দিন ভ্যান-গাড়ী দিয়ে সবজি বিক্রি করতেন। সবজি বিক্রি নিয়ে স্থানীয় কদমতলি এলাকার ব্যবসায়ীদের সাথে আদিপত্য বিস্তার নিয়ে লংপুর গ্রামের নাছির উদ্দীন ও আফসার উদ্দিনের মারামারি হয়। ফলে লংপুর গ্রামের নাছির উদ্দীন ও আফসার উদ্দিন কদমতলি এলাকা থেকে সরে এসে তারা সুবহানীঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে সবজি বিক্রি শুরু করেন।

লংপুর গ্রামের নাছির উদ্দীন ও আফসার উদ্দিন ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে সবজি ব্যবসা শুরু করার পর হঠাৎ একদিন কদমতলি এলাকার সবজি ব্যবসায়ীরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ গিয়ে নাছির উদ্দীন ও আফসার উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এঘটনায় লংপুর গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে আবু বক্করের পরামর্শে লংপুর গ্রামের নাছির উদ্দীন ও আফসার উদ্দিন লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। বিষয়টি নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করে। এ কারণে শত্রুতা আরো বাড়তে শুরু করে। আবু বক্করকে দোষারোপ করায় আবু বক্কর নতুন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন। তিনি গত ১৫ সেপ্টেম্বর কৌশলে লুৎফুর রহমানের গো-খাদ্য (খেড়) ঘরে ৩টি বস্তায় ৫৮ বোতল অফিসার চয়েস লুকিয়ে রেখে র‌্যাবকে খবর দেন। র‌্যাব গিয়ে লংপুর গ্রামের লুৎফুর রহমান গো-খাদ্য (খেড়)ঘর থেকে ওই মাদকদ্রব্য পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে এবিষয়ে র্যাব করো উপর মামলা দেয়নি।

সর্বশেষ গত ৫ অক্টোবর দিবাগত-রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে লুৎফুর রহমানের মহিষের ঘর থেকে ৪টা মহিষ বাড়ীর বাহিরে চুরির উদ্দেশ্যে বাহির করা হয়। লুৎফুর রহমান মহিষ চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শোনে গাড়ি বন্ধ করে বাড়ী যাওয়ার পথে রফিক আহমদের ছেলে কামাল উদ্দিন, মৃত সোনামিয়ার ছেলে আজমল ও মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আপ্তাব উদ্দিন লুৎফুর রহমানের বাড়ীতে ছুটে আসেন এবং চোরকে আটক করেন। চোরকে প্রাথমিকভাবে গণধোলাই দেয়ার পর চোরের মুখের দিকে আলো নিলে দেখা যায়, সে একই গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে আবু বক্কর। চোর আটকের খবর গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়। খভর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। চুরির অপরাধে অভিযুক্ত আবুবকরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু কাওছারের জিম্মায় মেডিকেল প্রেরণ করা হয়।

এব্যাপারে আবু বক্করের আপন চাচাতো ভাই কামাল উদ্দিন বলেন, গাড়িতে গ্যাস লোড করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ওইদিন বাড়ি ফিরতে আমার প্রায় রাত ২টা হয়ে যায়। গ্রামে এসে আমার সাথে দেখা হয় সোনামিয়ার ছেলে আজমল ও মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আপ্তাব উদ্দিনের সাথে। আমরা এক সাথে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ লুৎফর রহমান ভাই চোরচোর বলে চিৎকার শুরু করেন। আমরা দ্রুত লুৎফুরের বাড়ীতে চলে আসি এবং চোরকে আটক করে ফেলি। কিন্তু চোরের মুখের দিকে আলো পড়ার পর দেখতে পাই তিনি আমার আপন চাচাতো ভাই আবু বক্কর। তখন আমি তাদের সামন থেকে বাড়ি চলে যাই।

এব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মহসিন উদ্দিন বলেন, ওই রাতে ফতেহপুর ইউনিয়নে আমার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু লংপুর গ্রামে জনতার হাতে একজন চোর আটক হয়েছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং আবু বক্কর নামের এক ব্যক্তিকে জনতার হাত উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু কাওছারের জিম্মায় রেখে চলে যাই।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, ডৌবাড়ী ইউনিয়নের লংপুর গ্রাম থেকে চুরির অপরাধ এনে একটি অভিযোগ দিয়েছেন একটি পক্ষ। অপর দিকে অন্য একটি পক্ষ তাকে মারধরের অভিযোগ দিয়েছেন। উভয় দরখাস্তের তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার