শনিবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১২ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
সিলেটে আজ যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না বাঁচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
১৫

‘গল্পদাদু’ বন্দে আলী মিয়ার জন্মবার্ষিকী আজ

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

 


‘আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।
মাঠভরা ধান আর জলভরা দিঘি,
চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি।
আমগাছ জামগাছ বাঁশঝাড় যেন,
মিলেমিশে আছে ওরা আত্মীয় হেন।’


এই কবিতাটির রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর। তার সাহিত্যক্ষেত্রের বিচরণই শুধু এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল না, বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল তার পেশাগত জীবনও। তিনি শিক্ষকতা করেছেন, বেতারে কাজ করেছেন এমনকি নাটকেও কাজ করেছেন। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক হিসেবে।


ছোটদের জন্য পাঁচটা-দশটা নয়, মোট বইয়ের সংখ্যা ১০৫। আর সে সময়ে ছোটদের জন্য লেখা তার ছড়া-কবিতাগুলো এখনও জনপ্রিয়।

 
তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর, পাবনা জেলার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম উমেদ আলী মিয়া এবং মায়ের নাম নেকজান নেছা। কবির শৈশব আর কৈশোর কাটে রাধানগরেই।


১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কবি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন রাধানগর মজুমদার একাডেমি থেকে। এরপর ভর্তি হন কলকাতা আর্ট একাডেমিতে। ১৯২৭ সালে সেখান থেকে চিত্রকলায় ১ম বিভাগ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।


বন্দে আলী মিয়া তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পড়াশোনা শেষ করার আগেই। সাংবাদিক হিসেবে ১৯২৫ সালে তিনি ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। পরে, ১৯৩০ সালে যোগ দেন কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে, সহকারী শিক্ষক হিসেবে। এখানে দীর্ঘ ২০ বছর চাকরি করে ১৯৫০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ষাটের দশকে প্রথমে ঢাকা বেতারে ও পরে রাজশাহী বেতারে চাকরি করেন। পাশাপাশি কবি বিভিন্ন গ্রামোফোন কোম্পানির জন্য পালাগান ও নাটিকাও রচনা করেন। সেগুলো রেকর্ড আকারে বের হলে বেশ জনপ্রিয়ও হয়।


বন্দে আলী মিয়া সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ’র মতো বই লিখেছেন। যার মধ্যে ১০৫টি বই-ই ছোটদের জন্য। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে- ‘ময়নামতির চর’, ‘অরণ্য’, ‘গোধূলী’, ‘ঝড়ের সংকেত’, ‘নীড়ভ্রষ্ট’, ‘জীবনের দিনগুলো’, ‘অনুরাগ’।


আর ছোটদের জন্য লেখা বইগুলোর মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল চোর জামাই, মেঘকুমারী,  মৃগপরী, বোকা জামাই, কামাল আতাতুর্ক, ডাইনি বউ, রূপকথা, কুঁচবরণ কন্যা, ছোটদের নজরুল, শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা, বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা ইত্যাদি।


বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যকীর্তির জন্য ১৯৬২ সালে পান বাংলা একাডেমী পুরস্কার। ১৯৬৫ সালে পান প্রেসিডেন্ট পদক। মৃত্যুর পরও তিনি পেয়েছেন দুটো মরণোত্তর পদক। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৮৮ সালে একুশে পদক, ১৯৯০ সালে স্বাধীনতা পদক।


ছোটদের এই গল্পদাদু ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর