শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২০   চৈত্র ১৪ ১৪২৬   ০৩ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনা ভাইরাস: সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সেনাদের টহল  সিলেটেও করোনাভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব শনিবার বসছে আরও একটি স্প্যান করোনায় আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অকারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানি নয়: তথ্যমন্ত্রী মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে ৫৯৭  সিলেটে নতুন করে কোয়ারেন্টিনে ১০০, মুক্তি ১৬৯ জনের  করোনা বাধা হতে পারেনি তাদের ভালোবাসায় করোনায় নতুন আক্রান্ত ৪, মোট ৪৮: আইইডিসিআর
১৩০

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের করণীয়

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২০  

করোনাভাইরাসের প্রকোপে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে নিস্তার পায়নি বাংলাদেশও। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে একজন মারা গেছে। 

তবে এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায়, আমাদের সতর্ক থাকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সতর্ক থাকতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে।   

আগামী ১৪ দিন সতর্কতার সঙ্গে দুটি শর্ত পালন করলে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারে বাংলাদেশ। শর্ত দুটি হচ্ছে - বিদেশ থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এবং ইতোমধ্যে বিদেশ ফেরতদের এবং তাদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে আগামী ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক অথবা হোম কোয়ারেনটিন নিশ্চিত করতে হবে। এর অন্যথা হলে এ দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ভয়াবহ এক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশ। দেশে গতকাল মঙ্গলবার আরও দুজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। এ ১৪ জনের কেউ বিদেশ ফেরত, কেউবা তার পরিবারের সদস্য যিনি সংক্রমিত হয়েছেন বিদেশ ফেরত লোকটির মাধ্যমে। 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আইইডিসিআরে গত ২৪ ঘণ্টায় কল করেছেন ৪২০৫ জন। এসব কলের মধ্যে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত কলের সংখ্যা ৪১৬৪টি। আইইডিসিআরে সরাসরি এসেছেন ২০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটিনে আছেন ৪৩ জন। তিনি বলেন, ইউরোপসহ করোনা আক্রান্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে আসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। গত সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটের পর আর কেউ বাংলাদেশে আসেননি। যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে কারও করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকলে ২ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা পাবে। এই সময়ের মধ্যে করোনার লক্ষণ প্রকাশ না পেলে পরে আর ভাইরাসটি ছড়ানোর ঝুঁকি থাকবে না। কারণ এখন বিদেশ থেকে আসা বন্ধ রেখেছে সরকার, নতুন করে কেউ আসার কথা না।

ডা. ফ্লোরা যোগ করেন, ১৪ দিনের মধ্যে যারা এসেছেন, তাদের ক্ষেত্রে হোম কোয়ারেনটিন প্রযোজ্য। সিভিল সার্জনদের দপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যাদির ভিত্তিতে দেশে যারা হোম কোয়ারেনটিনে আছেন, তাদের সংখ্যা আমরা জানিয়েছিলাম। এর বাইরে কিছু জায়গা আছে, হোম কোয়ারেনটিন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাই আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েছি। যারা হোম কোয়ারেনটিনে থাকছেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। হোম কোয়ারেনটিনই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। তাই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছি। স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল টিম বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ অনুযায়ী হোম কোয়ারেনটিনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, তাদের হোম কোয়ারেনটিনের বিষয়টি যেন নিশ্চিত করা যায়, আমাদের সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যাদের বাড়িতে কোয়ারেনটিন করা সম্ভব নয়, আমরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটিনে রাখার ব্যবস্থা করছি।

গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক থাকা দরকার

গণমাধ্যমকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমরা দেখছি অনেক সংবাদকর্মী বিদেশ থেকে আসা লোকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তাদের খুবই কাছাকাছি অবস্থান করেন। কিন্তু তাদের উচিত অন্তত এক মিটার দূর থেকে কথা বলা। যেসব জায়গায় (হাসপাতাল ও কোয়ারেনটিনস্থল) সংক্রমণ হতে পারে, আপনারা সেখানে যাবেন না। এর পরও যদি যেতে হয়, মাস্ক পরে যাবেন। গণজমায়েত ও জনসমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময়ও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। যাদের এখন জ্বর, সর্দি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে তারা গণপরিবহন ব্যবহার করবেন না।

অফিসকর্মীদের প্রতি পরামর্শ
অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা আমাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন তারা কী করবেন। আমরা বলছি শুধু গার্মেন্টস নয়, যেসব অফিসে একসঙ্গে অনেক মানুষ কাজ করেন, কাছাকাছি বসেন, তাদের প্রতি পরামর্শ হচ্ছে- কর্মস্থলে প্রবেশের সময় করোনা ভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গগুলো (জ্বর, কাশি, হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট) পরীক্ষা করে প্রবেশের সুযোগ দিন। যাদের মধ্যে লক্ষণ বা উপসর্গ পাওয়া যাবে তারা বাড়িতে থাকবেন। মালিকপক্ষ তাদের স্ব-বেতনে ১৪ দিন বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করবেন। যদি তাদের বেতন দেওয়া না হয়, তা হলে তারা তথ্য গোপন করতে পারেন। এতে সেখানে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি থাকবে। এ ছাড়া আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানে বিদেশি বায়ার আসেন। আপাতত তারা যেন না আসেন। তারা যদি দাপ্তরিক কাজে এসেও থাকেন, তা হলে তারা যেন আমাদের যেখানে বেশি মানুষ কাজ করেন সেখানে না যান।

রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি জানি ৫৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০ মিনিট ফুটালে ভাইরাস মরতে পারে। তাহলে আমরা কী নিজেদের ৫৬ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করতে পারবো। যদি আমি ভাইরাস মারতে চাই তাহলে ৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা প্রয়োজন হবে।

তাপমাত্রা বেশি হলে করোনা ভাইরাস কাজ করতে পারে না এমন ধারণা ভুল। তবে ৭০ ডিগ্রির উপরে তাপমাত্রা হলে এ ভাইরাস ধ্বংস হয়। স্বাভাবিক পরিবেশে কোথাও এমন তাপমাত্রা থাকে না। তাই তাপমাত্রা বাড়া বা কমার সঙ্গে এ রোগের সংক্রমণের কোনো সম্পর্ক নেই। এমন তথ্য জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. এ. এস. এম আলমগীর।

এটার নিচে ১ ডিগ্রীও না। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া যখন আমরা মারি তখন আমাদের সব মারতে হবে। কারণ মানুষের শরীরে যদি একটা ব্যাকটেরিয়া বা একটা ভাইরাস বেঁচে থাকে তবে সেটা আবার রিপ্রোডাকশন করে মিলিয়ন বিলিয়ন ভাইরাস তৈরি করতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমাদের সৌভাগ্য আমরা মোটামুটি সবাই ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে সেদ্ধ করা খাবার খাই। তবে হাফ বয়েল ডিম, ডিম পোচ খাওয়া এগুলো কাঁচা খাওয়া। আফ্রিকান মানুষ যখন বন জঙ্গলে যায়, পোকা মুখে দেয় আমরা বলি ও পোকা খায়। কিন্তু আপনি যে কাঁচা ডিম খান প্রতিবেলায়। আফ্রিকার মানুষ দেখে তো হাসতেও পারে ও কাঁচা ডিম খায়। তাই বলব যা খাবেন সিদ্ধ করে খাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইডিসিআর’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা, সেশন চেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, গেস্ট স্পিকার অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান প্রমুখ।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার
এই বিভাগের আরো খবর