• সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১০ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
ঢাকা-সিলেট চার লেন নির্মাণ ব্যয় সাত হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বেড়েছে রায়হান হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন মিথিলাকে মণ্ডপে নিয়ে বিপাকে সৃজিত তাহিরপুরে জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত মাস্ক না পরলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নয়

আর প্রতিশ্রুতি শুনতে হবে না, এলাকাবাসীই বানাল ভাসমান সেতু

সিলেট সমাচার

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২০  

‘মানুষের ইচ্ছেশক্তি যেকোনো কঠিন কাজকে সহজ করে তোলে’ এমনটা আবারও প্রমাণিত হলো ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতী নদীর বাঁওড়ের (নদীর শাখা অংশ) উপরে ভাসমান সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নসহ পাশের ছয় ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার মানুষ প্রতিদিন নৌকায় এ বাঁওড় পার হয়ে মূল ভুখণ্ডে প্রবেশ করেন। এতে অর্থ ও সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয় ওই এলাকার নারী, পুরুষ ও শিক্ষার্থীদের। তাই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এখানে একটি সেতু নির্মাণের। বছরের পর বছর চলে যায়। কিন্ত সেই দাবি পূরণ হয় না।

অবশেষে টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপনের উদ্যোগে টিটা, টিটা পানাইল, পানাইল, শিকারপুর, ইকরাইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের লোকজন মিলে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রক্রিয়ায় অর্থ সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেন এলাকার প্রায় ৫২ জন ব্যক্তি। এছাড়াও অসংখ্য মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় ভাসমান সেতু নির্মাণ প্রায় শেষ। এখন শেষ মুহূর্তে কাজ চলছে।

টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইমাম হাসান শিপন জানান, এ অঞ্চলে একটি কলেজ, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমিউনিটি ক্লিনিক ও পোস্ট অফিস রয়েছে। নানা প্রয়োজনে মানুষকে এখানে আসতে হয়। বহু আবেদন-নিবেদন করার পরও ওইস্থানে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় আমরা টিটা খেয়া ঘাট এলাকায় চার টন ক্ষমতা সম্পন্ন এ ভাসমান সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৮৫২ ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১২ ফুট এবং ২৫০ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৮৫২টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ স্টিল পাত দিয়ে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নির্মাণ করছে যশোরের বিশ্বাস ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ। এ সেতুর ওপর দিয়ে চার টন ক্ষমতাসম্পন্ন ছোট আকারের যান চলাচল করতে পারবে।

ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জানান, এ সেতুর নকশা করেছেন টিটা এলাকার বাসিন্দা মুকুল খান। তিনি রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এ সেতুর অন্যতম বৈশিষ্ট হলো এ সেতুর মাঝামাঝি ১২ ফুট চওড়া ও ছয় ফুট উঁচু রাখা হয়েছে। এতে করে সেতুর নিচ দিয়ে বাঁওড়ে যেতে নৌকা চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না। ওই এলাকায় ভাসমান সেতু নির্মাণে খুশি এলাকাবাসী, তাদের আর খেয়া নৌকার জন্য সময় নষ্ট হবে না।

ওই এলাকার শিক্ষিকা জাহেদা বেগম জানান, এখানে পারাপারের জন্য মাত্র একটি খেয়া নৌকা রয়েছে। এ ঘাট পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন উপজেলা সদরসহ বিভিন্নস্থানে যান কয়েকশ মানুষ। কিন্তু তাদের অর্থ ও সময় নষ্ট হয়। এ ভাসমান সেতু নির্মাণ হওয়ায় আমাদের আর অপেক্ষা করতে হবে না। সময়মতো স্কুল, কলেজ ও অফিসে যেতে পারব।

স্থানীয় শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক হোসেন, শাওন, হাসিনা, আরজ। তারা প্রতিদিন এ খেয়া নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। মাঝে মাঝে নদী পার হতে দেরি হওয়ায় ক্লাস করতে পারেনি তারা। এ সেতু হওয়ায় তারা জানায়, সহজ পারাপারের জন্য সব কাজ ঠিকমতো করা যাবে।

সিলেট সমাচার
সিলেট সমাচার